বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে সোলেমান লেংটার মাজার এলাকায় নারীদের অশালীন গানের আস্তানা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০২২, ৩:০৮ পিএম
মতলব উত্তরে সোলেমান লেংটার মাজার এলাকায় নারীদের অশালীন গানের আস্তানা!

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর গ্রামে অবস্থিত দেশব্যাপী পরিচিত হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মাজার শরীফ। এই মাজার এলাকায় প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় অর্ধশতাধিক আস্তানায় গানের আসর বসে। আসলেই কি শুদ্ধ গানের আসর নাকি অশালীন কর্মকান্ড চলছে? এই প্রশ্নের জবাব পেতে গত ১৪ জুলাই রাতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত ৯.৩০ টা। সোলেমান লেংটার মাজার শরীফের দক্ষিণ পাশে কয়েকটি আস্তানায় শুরু হচ্ছে গান আর অশালীন নাচ! আস্তানাগুলোতে ঘুরে দেখা গেল নানান বিচিত্র। প্রতিটি আস্তানায় পুরুষদের পাশাপাশি রয়েছে নারীদের ব্যাপক সমাগম। নারীদের ওখানে কাজ কি? এমন প্রশ্নও উকি মারছে মনে। এবার আসি আসল কথায়, প্রতিটি আস্তানায় কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী নারীদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশালীন গান ও নাচ পরিবেশন করা হচ্ছে। তাদের সাথে মগ্ন হয়ে নাচছে ভক্তবৃন্দ। শিল্পী নামের অশালীন নারীদের উপর টাকা ছুড়ে মারছে অনেকে। আবার কেউ কেউ হাতেও ধরিয়ে দিচ্ছে টাকার নোট। রাত যত গভীর হয় ততই অশালীন দৃশ্য চোখে পড়ার মত।

যা একটি ইসলামিক সমাজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলা চলে। গভীর রাতে এমন আরো কিছু অশ্লীল দৃশ্য চোখে পড়ে যা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা সম্ভব নয়। অশ্লীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাড় হয় প্রতিটি বৃহস্পতিবার রাত। এসব কর্মকান্ডের কারণে শাহ সোলেমান লেংটার পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে চরমে। তবে এ ধরনের নিষিদ্ধ কর্মকান্ড কার নেতৃত্বে চলে বা কারা শেল্টার দেয়? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্থানীয় কেউই মুখ খুলেন নি।

সোলেমান লেংটার ভক্ত আশেকান যারা মাজার জিয়ারত করতে আসেন অথবা ইবাদতের মন নিয়ে আসেন এমন ভক্তদের কাছে এসব অশ্লীলতা অপ্রিয়। তবে অশ্লীলতার জন্য ভিন্ন মনমানসিতার লোক সোলেমান লেংটার মাজারের নাম করে চলে যান গানের আস্তানায়। আর রাতভর উপভোগ করেন নিষিদ্ধ কর্মকান্ড। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সোলেমান লেংটার ভক্ত আঃ ছাত্তার বলেন, আমি এসেছি সোলেমান লেংটার মাজার জিয়ারত করতে। কিছুদিন পরপর আসি। কিন্তু মাজারের আশে পাশে আস্তানায় মহিলাদের দিয়ে নাচ গান করানোটা ইসলাম সম্মত না। এতে করে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট হতে পারে। আরো কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, মাজারের যে সঠিক নিয়ম বা প্রচলন তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অশালীন কর্মকান্ডের কারণে। এখানে শুধু ইসলামিক যেমন, মিলাদ, দোয়া, কোরআন তেলোয়াত, দুরুদ পাঠ করা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করে নারী দিয়ে নাচ গান করানোটা অশালীন। যা আমরা কখনো কামনা করি না।

Model Hospital

এ ব্যাপারে কথা হয় শাহ সোলেমান লেংটার মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার সাথে। মাজার এলাকায় অশালীন নাচ গানের ব্যবসা কে করছে, মাজার কমিটি নাকি আপনি জড়িত আছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সোলেমান লেংটার মাজারের খাদেম। এই অশালীন কর্মকান্ড করলে আমাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। সোলেমান লেংটাও আমাকে অভিশাপ দিবেন। লাল মিয়া বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, মাজারের আশে পাশে নারী দিয়ে নাচ গান এটা আমি কখনোই সর্মথন করি না। এরফলে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট হয়। গত ৫ বছর আগে থানা প্রশাসনের উদ্যোগে আমি নিজে সহযোগীতা করে এধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আবার এসব গান বাজনা চালু হয়েছে। কে বা কাহারা সোলেমান লেংটার সঠিক ইতিহাস নষ্ট করতে এধরনের পায়তারা করছে। আমি এসব কর্মকান্ডের পক্ষে কখনোই ছিলাম না,এখনো নেই। তবে পুরুষ বাউল শিল্পীরা আধ্যাত্বিক গান পরিবেশন করতে পারেন, তাতে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট হবে না।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসান বলেন, ইসলাম বিরোধী অথবা অশালীন কর্মকান্ড কোথাও হতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আমি এই প্রথম জানলাম। তদন্ত করে এমন কিছু পাওয়া গেলে অবশ্যই তা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। অবিলম্বে তা বাস্তবায়ন করবো।

(এ প্রতিবেদনটি কোন নারীকে ছোট করার জন্য করা হয়নি, যারা অসহায় নারীদের ব্যবহার করে সমাজকে কুলসিত করছে তাদেরকে সচেতন করাই মূল লক্ষ্য)

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital