শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

তারা এক সময় বলেছিল দীপু মনি মুসলমান নয়; চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২, ৫:৫৬ পিএম
তারা এক সময় বলেছিল দীপু মনি মুসলমান নয়; চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী
সজীব খান : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগনের সরকার, জনগণের কল্যাণী তিনি সব সময় কাজ করছেন। শনিবার সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২০২১-২১ অর্থবছরের নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণবাসন সহায়তা হতে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে, পদ্মা সেতু হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হয়েছে, রাস্তাঘাট, ব্রিজ  কালবাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সব স্থানেই উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েছে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিবর্তন হয়েছে।
তুনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা,  প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমান তালে কাজ করছে, নদী ভাঙ্গতি মানুষের পূর্নবাসন করছে। প্রধানমন্ত্রীর কারণেই রাজরাজেশ্বরের চরে আজ আলো জ্বলছে, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাংতি মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন বিএনপি জামাতের আমলে যেখানে চরাঞ্চলের মানুষের চরম দুর্ভোগে ছিল, সেখান থেকে আওয়ামী লীগ সরকার উঠিয়ে এনেছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে, বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যারাই বিপদে আছে, তার কথাই তিনি ভাবছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে, নতুন ভাবে বাঁচার আশার আলো পাঠিয়েছে,  পৃথিবিতে কোন দেশেই এভাবে করেনি।  শেখ হাসিনা যে ভাবে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সব সময় চিন্তা করে মানুষ যাতে ভাল থাকে, কোন মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে, রাস্তায় না ঘুমায়, লেখা পড়াসহ সার্বিকভাবে ভালো থাকে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাড়ির পাশেই কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে, এ কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষদেরকে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। লোকজন বলে শিক্ষা থেকে ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা মিথ্যাচার করে তারা সেই লোক যারা এক সময় বলেছিলন দীপু মনি মুসলমান নয়, তারা ৭১ মানুষ মারছে, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যা করছে, শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করে মারতে ছেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মের কথা বলতে মানুষ আবেগ আপ্লুতু হয়ে পড়ে। এক সময় মানুষ বলেছিল নৌকাকে ভোট দিলে ধর্ম থাকবেনা, এখন আবার সে চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাদেরকে চিহৃত করতে হবে, প্রতিহত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশের নের্তৃত্ব দিতে পারে সেদিলে লক্ষ রাখতে হবে, আগামী বছর জাতীয়  নির্বাচন, শেষ সময়ের কথা চিন্তা করে, নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।
যে সব এলাকায় নদী ভাংতি রয়েছে, সে সব এলাকা টিকিয়ে রাখতে হবে, সহযোগীতা করতে হবে, সবাইক সচেতন হতে হবে, যারা সরকারের সহযোগীতা পায় তাদের তালিকা সঠিক ভাব  করতে হবে,  কোন অসহায় মানুষের যাতে বঞ্চিত না হয়, তাই তালিকা করার সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গন সঠিকভাবে করতে হবে, সরকার মানুষদেরকে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করছেন। সরকারের সকল সুবিধা যাতে জনগণের কল্যাণে আসে সে বিষয়ে চিন্তা নিয়েই সকলকে কাজ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা হকের সভাপতিত্বে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের ফিল্ড অফিসার  রবিউল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী।
অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারি, অ্যাডঃ মুজিবুর রহমান ভুুঁইয়া,  সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশাদ মিয়াজী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইউব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কোরআন তেওলায়াত করেন সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ কেফায়েত উল্ল্যাহ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত   ১০১ জন পরিবারের মাঝে ৫৬ লক্ষ টাকা  পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’