শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২, ৭:০৫ পিএম
চাঁদপুরে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারী নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, চাঁদপুর শাখার ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা, সম্মাননা প্রদান ও নবগঠিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এবং প্রভাত চাঁদপুর শাখার প্রধান উপদেষ্টা সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা বেগম পলিন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি প্রথমেই বলবো এ সংগঠনটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো সংগঠন। চাঁদপুরে সংগঠনটির বিগত বছরের কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। করোনাকালীন ভূমিকা, রক্তদান, অসহায় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা ও অসহায়দের স্বাবলম্বী করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি। পরিশেষে আমি প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

প্রভাত চাঁদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হোসেন ও নারী বিষয়ক সম্পাদক আছিয়া আক্তার মিথিলার যৌথ প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাত চাঁদপুর শাখার উপদেষ্টা মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও প্রভাত চাঁদপুর শাখার দাতা সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদার, প্রভাত কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ এরশাদ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রহিজ উদ্দিন, চাঁদপুরের সমাজকর্মী এইচ এম জাকির, প্রভাত ঢাকা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার ৫ম বর্ষপূতি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, প্রভাত চাঁদপুর শাখার প্রধান উপদেষ্টা সোহেল রুশদী ।

প্রভাত কচুয়া শাখার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোঃ শাখাওয়াত হোসেন এর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রভাত চাঁদপুর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান। এসময় প্রভাত হাজীগঞ্জ শাখার পক্ষে বক্তব্য রাখেন শাখার সহ সভাপতি শশী রোজানা, তানভীর জয়, প্রভাত শাহরাস্তি শাখার সভাপতি তানজিজুল আজিজ, প্রভাত ফরিদগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ এমরান হোসেন, প্রভাত কচুয়া শাখার দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবু হানিফ।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরন করে নেন প্রভাত চাঁদপুর শাখার নেতৃবৃন্দ। এসময় প্রভাত চাঁদপুর শাখার ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রভাতের সকল শাখাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, দুইজন অসহায় ব্যক্তিকে অনুদানের চেক বিতরণ করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সেই সাথে প্রভাত চাঁদপুর শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরন করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার বিভিন্ন শাখার শতাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’