শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ নিয়ে মেজর রফিকুল ইসলামের গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২, ৬:১২ পিএম
শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ নিয়ে মেজর রফিকুল ইসলামের গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়
মোঃ মাসুদ রানা : শাহরাস্তি হাজীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা-চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসনের উন্নয়ন মহাযজ্ঞ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় মিলিত হয়েছেন।
রবিবার (২৪-জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহরাস্তি পৌরশহরের উপলতা পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফের বাসভবনে এটির আয়োজন করা হয়। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ- পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ মেজর অব. রফিকুল  ইসলাম বীর উত্তম এমপি গণমাধ্যমের নিকট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ওই সময় তিনি চাঁদপুর ৫- হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি সংসদীয় আসনের চার বার সাংসদ হিসেবে এই নির্বাচনী এলাকায় যে উন্নয়ন মহাযজ্ঞ সম্পাদন করেছেন তার একটি ফিরিস্তি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন। ওই সময় তিনি শাহরাস্তি হাজিগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর উপর চলমান কার্যক্রম সহ ৯ টি ব্রিজ নির্মাণের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি শতভাগ বিদ্যুৎ আয়নের আওতায় এসেছে যার সুফল জনগণ এখন ভোগ করছে। অবকাঠামগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রায় ৮ শ’ ব্রিজ কালভার্ট, ৭- ৮ শ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামো হাইরাজ বিল্ডিং, ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান সড়ক নির্মাণের কথা তুলে ধরেন। যার সুফল এখন শিক্ষার্থীরা ভোগ করছে।
এছাড়া তিনি শাহরাস্তিতে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভার গ্রেড পরিবর্তন ও ভবন নির্মাণ, আর্সেনিক প্রবল এলাকা হিসেবে শাহরাস্তি পৌর শহরে সুপ্রিয় পানির ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ, গ্রামীণ জনপদের গভীর  নলকূপ স্থাপন করেন।
সম্প্রতি ডাকাতিয়া নদীকে খনন করে নাব্যতা কমিয়ে মৎস্য চাষের উপযোগী  করা, একই সঙ্গে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়  সূচিপাড়া ব্রিজ হতে ছিখটিয়া ব্রিজ পর্যন্ত চলমান নির্মানাধীন ওয়াকওয়ে, টেন্ডার প্রক্রিয়া মডেল মসজিদ, ভূমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় স্টেডিয়াম কথা তুলে ধরেন।
যার উন্নয়ন ব্যায়  প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ওই সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের প্রেস ক্লাবের গণমাধ্যম কর্মীরা সাংসদকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন এবং তিনি ধৈর্য সহকারে ঐ সকল প্রশ্নের উত্তর দেন। একপর্যায়ে তিনি শাহরাস্তি হাজিগঞ্জ মানুষের কষ্ট কমাতে হাজীগঞ্জ বাজার, ঠাকুর বাজার, সুচিপাড়া বাজার, আয়নাতলী বাজারে ফ্লাইওভার কিংবা বাইপাস  নির্মাণে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট ডিওলেটার পাঠিয়ে সে কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানান। চাঁদপুর আধুনিক নৌবন্দরের টেন্ডার প্রক্রিয়া আগামী মাসের মধ্যেই শেষ হবে।
এছাড়া তিনি  আমৃত্যু মানবতার কল্যাণ নিজেকে উৎসর্গ করার কথা ব্যক্ত করেন। আমার জীবনে আর চাওয়া পাওয়া কিছুই নেই। তোমার চাওয়া পাওয়া হাজীগঞ্জে শাহারাস্তি তথা বাংলাদেশের মানুষ যেন সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে। সেই লক্ষ্যে আমি দিনরাত নিজেকে বিলি দিয়ে ব্যস্ত থাকি।
ওই মতবিনিমা সভায় উপস্থিত থেকে আসন অলংকৃত করেন, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ, বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা,  পৌর মেয়র হাজী আঃ লতিফ, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল মান্নান, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার, সুচিপাড়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও আলীগ নেতা হুমায়ুন কবির লিটন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত , ইকবাল হোসেন পাটোয়ার, মোহাম্মদ শহীদ পাটোয়ারী, মোঃ শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, আহসান উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে শাহরাস্তি উপজেলা পৌর আলীগ সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংসদের  সফরসঙ্গী মশিউর রহমান শাহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, যুবলীগের আহ্বায়ক আহসান মঞ্জরুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক পৌর যুবলীগ আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বেপারী, আলীগ নেতা আব্দুল গফুর, চেয়ারম্যান ওমর ফারুক দর্জি, প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা প্রমুখসহ চাঁদপুর -শাহরাস্তি হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ায় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’