শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা ঘিরে নেতা কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২, ২:১৭ পিএম
কচুয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা ঘিরে নেতা কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ

মোঃ রাছেল : কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ ঘোষণাকে ঘিরে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। এ সভাকে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় এবং উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নিজেদের ছবির সঙ্গে এমপি, কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দিয়ে ব্যানার, বিলর্বোড ও তোরণ নির্মাণ করছেন ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা। বাইপাস সড়ক হতে দলীয় পার্টি অফিসের কার্যালয় পর্যন্ত ছেয়ে গেছে ব্যানার আর তোরণে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দীন আহম্মেদ উদ্বোধক হিসেবে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারী উপজেলা সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সম্মেলনে আইয়ুব আলী পাটওয়ারীকে সভাপতি ও সোহরাব হোসেন সোহাগ চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক পদে ভোটে নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ তিনটি অংশে বিভক্ত হয়ে চলছে। একটি হলো উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য স্থানীয় সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সমর্থিত অংশ, অপরটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ সমর্থিত অংশ, আরেকটি এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. গোলাম হোসেনের সমর্থিত অংশ। সম্মেলনকে ঘিরে দু’বছর ধরে গ্রুপিং লবিং ও দৌড়-ঝাঁপক চলছে।

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণাকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টিতে আসার জন্য সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদ-প্রাপ্তির আশায় পৌর শহরের আনাচকানাচে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচরনা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা। পদ পাওয়ার প্রচারনায় সভাপতির তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজ আহম্মেদ স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রধান।

Model Hospital

সাধারন সম্পাদকের পদ-প্রাত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহবার হোসেন সোহাগ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম লালু, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর জব্বার বাহার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কউপ-কমিটির সদস্য ইমাম হোসেন মেহেদী।

বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহবার হোসেন সোহাগ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। এ বড় দলে গ্রুপিং লবিং থাকতেই পারে। তবে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি,কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা নেতৃবৃন্দের সামনে কেউ সেটা প্রমান করার দুঃসাহস দেখাবে না বলে তিনি প্রত্যাশা করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী জানান, বর্ধিত সভাকে ঘিরে এরই মধ্যে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের দাওয়াত ও অপ্যায়নের সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’