শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বামীর পরকিয়া : মতলব উত্তরে স্ত্রীকে স্বামী দেবর শ্বশুর শ্বাশুড়ি কর্তৃক মারধর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২, ২:৩৮ পিএম
স্বামীর পরকিয়া : মতলব উত্তরে স্ত্রীকে স্বামী দেবর শ্বশুর শ্বাশুড়ি কর্তৃক মারধর

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুক্তিরকান্দি গ্রামে নাসরিন আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে স্বামী, দেবর, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি কর্তৃক ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত নাছরিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

আহত নাসরিন বলেন, আমি উপর তারা এমন ভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে যেন আমি একটা পশু। গত ৯ বছর যাবৎ এই অত্যাচার সহ্য করছি। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী একজন মাদক কারবারি। সে পরকীয়া করে বিভিন্ন নারীদের সাথে। রাতভর মোবাইলে চ্যাটিং করে ও ইমুতে কথা বলে।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বললেই আমাকে ধরে মারধর করে। আমার শ্বাশুড়ি বলে আমি সংসার ছেড়ে চলে আসতাম তার ছেলেকে আরেকটা বিয়ে করাবে। আজকে আমাকে আমার স্বামী ফয়েজ, শ্বশুর আলমগীর সরকার, শ্বাশুড়ি মাজেদা বেগম, দেবর আনিছুর রহমান সহ সবাই মারধর করছে। হাতে কোপ দিছে ও রড দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা যখন করেছে।

আহতের ভাই মহন বলেন, আমার বোনকে ২ লাখ টাকা যৌতুক দিয়ে বিগত ৯ বছর আগে বিয়ে দিছি। বিয়ের পরও বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করতেছি বোনের শান্তির জন্য। গরু দিয়েছি যাতে লালন পালন করে স্বাবলম্বী হয়। কিন্তু তার স্বামী ফয়েজ সরকার পরকীয়া করে অন্য নারীদের সাথে। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বহুদিন ধরে অশান্তি। গত বছরে আমার বোনকে অনেক মারধর ও তার উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আজকে আবার তারা সবাই মিলে তাকে মারাত্মক জখম করেছে। টানা হেঁচড়া করে পোশাক ছিড়ে ফেলছে।

Model Hospital

এ ব্যাপারে ফয়েজ সরকার বলেন, তার (নাসরিন) মুখের ভাষা খুবই খারাপ। তাই রাগের মাথায় মেরেছি। নাসরিন সবসময় আমার খারাপ আচরণ করে। আমি কোন মাদকের সাথে জড়িত নেই, একসময় ছিলাম। আর কোন পরকীয়া করি না।

নাসরিনের দেবর আনিছুর রহমান বলেন, তার মুখ খুব খারাপ। আমাদের বংশ নিয়ে খারাপ কথা বলে। তাই চেয়ার দিয়ে বারী দিয়েছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’