শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বউ পিটানো বা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার; ড. মহীউদ্দীন খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২, ১১:৩১ এম
বউ পিটানো বা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার; ড. মহীউদ্দীন খান

মোঃ রাছেল : কচুয়ায় উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি’র উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব উল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি বলেন, আপনারা যারা সরকারি কর্মকর্তা আছেন তাদের সকলকে আমি সরকারের তরফ থেকে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আপনাদের কাজ করার প্রক্রিয়ায় কোন কারনে আপনাদেরকে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না। তবে হা এটাও মনে রাখবেন এটা সরকারি কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে। এর বাইরে কোন কর্মকর্তা যদি গৃহস্থলিত কোন কর্মকান্ড, বউ পিটানো কিংবা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হন তাহলে কিন্তু তাৎক্ষণিক তাকে গ্রেফতার করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার পূর্বানুমতি লাগবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে যাতে সকল নাগরিক স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। সংবিধানের ১বা২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন এই কথাগুলো আপনারা মনে রেখে জনগনকে সেবা দিয়ে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা নিষ্ঠার সাথে পালন করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া তোলা সম্ভব হবে। মনে রাখবেন, নারী পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোফায়েল হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব চন্দ্র দাস, প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, আইসিটি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম খোকা, কচুয়া জোনাল অফিসের ডিজি এম মো. বেলায়েত হোসেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক ভৌমিক, মুক্তিযোদ্ধা জাবের মিয়া, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রাণধন দেব প্রমূখ।

Model Hospital

একই দিন দুপুর ১২টায় ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর কচুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর পুকুরে ৩শত কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক আঃ সাত্তার, চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান প্রমূখ।
এছাড়াও সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি কচুয়া পৌর বাজারে সুলতান ভূঁইয়া শপিং কমপ্লেক্সে স্বপ্ন সুপার শপের আউটলেটের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, কচুয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন বাটা, কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান খন্দকার আরিফুজ্জামান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূইয়া, স্বপ্ন সুপার শপ কচুয়া আউটলেটের পরিচালক ও কচুয়া উত্তর ইউপির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, জাবেদ হোসেন, প্রকৌশলী কাজী সাইফুর রহমান সহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি উপজেলার সেংগুয়া গ্রামে বেসরকারি সংস্থা কেআইডিপির উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’