শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২, ১২:২৬ পিএম
মতলব উত্তরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময়

মতলব উত্তর ব্যুরো : মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলার ৮৩জন অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন বীর নিবাসের কাজের অগ্রগতি, কাজের মান সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোজাম্মেল হক, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ব্যবহারকারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার সরকার মো. আলাউদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আওরঙ্গজেব’সহ অন্যান্যরা।

মতলব উত্তরে এগিয়ে চলছে অসচ্ছল ৮৩ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার দৃষ্টিনন্দন বীরনিবাসের কাজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান এর তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মো. আওরঙ্গজেবের সহায়তায় বাড়ীগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।

পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান অর্থবছরে আবাসন নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ৮৩ অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য বাসগৃহ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। বাসগৃহগুলো ছয়’শ পঁয়ত্রিশ স্কয়ার ফিট জায়গার উপর তিনটি বেডরুম, ড্রইংরুম, রান্নাঘর ও ২টি বাথ-টয়লেট আছে।

Model Hospital

১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনিতে ছাদসহ প্রতিটি ঘরে দুটি করে মোট আটটি থাইগ্লাস ওয়ালা জানালা এবং একটি করে কাঠের দরজা রয়েছে। সেই সাথে সাবমার্সিবল পাম্প দ্বারা শাপলাই পানির ব্যবস্থা আছে। প্রতি নিবাসে চৌদ্দ লাখ দশ হাজার তিনশত বিরাশি টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর ইট, সিমেন্ট এবং বালির সংমিশ্রণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাড়ী নির্মাণের কাজ করছেন। সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার উপস্থিত থেকে কাজের গুনগত মান বুঝে নিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ৮৩ পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া দৃষ্টিনন্দন বীরনিবাসের কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা যেনো সম্মানের সাথে মানসম্পন্ন বাড়ীতে বসবাস করতে পারেন সে লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পর্যায়ক্রমে সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বীরনিবাস সুবিধার আওতায় আসবেন বলে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’