শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্তানকে সম্পদে পরিণত করতে হলে বেশি বেশি সময় দিতে হবে; ডিসি কামরুল হাসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:৪৭ পিএম
সন্তানকে সম্পদে পরিণত করতে হলে বেশি বেশি সময় দিতে হবে; ডিসি কামরুল হাসান

নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে; পুলিশ সুপার মিলন মাহমু

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক অভিভাবক সমাবেশ এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সন্তানকে সম্পদে পরিণত করতে হলে, সন্তানকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা জীবন হলো জীবন গঠনে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময়। লেখাপড়া করে নিজেকে গঠন করার শ্রেষ্ঠ সময়। প্রকৃত অর্থে নিজের জন্য কিছু করে মানুষ হওয়াই একজন শিক্ষার্থীর ব্রত হওয়া উচিত। তাহলেই জীবনে সফলতা আসবে। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি পরীক্ষায় এই কলেজ ভালো ফলাফল করবে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মাঝে মধ্যে কলেজে এসে সন্তানের খোঁজ খবর নিতে হবে। এ জন্যে অভিভাবককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

Model Hospital

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মুক্তার আহাম্মদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, বিপিএম-বার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গিতে চালাতে হবে। মোবাইল ফোন শিক্ষা মূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাদক, ইভটিজিং থেকে দুরে থাকতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দল হবে সমাজের ইতিবাচক কাজের জন্য। শিক্ষার্থীদের দল যেন কিশোর গ্যাংয়ে পরিণত না হয় সেদিকে আমাদের সকলের খেয়াল রাখতে হবে। তিনি পিতা-মাতা হিসেবে সন্তানের খোঁজ খবর রাখার প্রতি প্রত্যেক অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. সাইফুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সমাবেশে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিএইচএম কবির আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক, চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামজ্জোহা, চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহিম ইকবাল, এএসপি (মতলব সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল মোস্তফা তালুকদার, জিবির সাবেক সদস্য মো. বজলুর রশিদ মজুমদার, কলেজের দাতা সদস্য মো. আব্দুল মবিন প্রধান, কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য মো. রাসেল প্রধান, মো. জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার, কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. আফম সাইফুর রহমান ভুঁইয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্বী আক্তার, জিপিএ -৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান।

পরে অতিথিগণকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয় এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিতি ছিলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেটু কুমার বড়ুয়া, ডা. নুসরাত জাহান মিথেন, মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম খান, জিবির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, অভিভাবক, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।