শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রামাঞ্চলের মানুষজনকে ‘লিগ্যাল এইড’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে; বিচারপতি এসএম জাহাঙ্গীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:৪৬ এম
গ্রামাঞ্চলের মানুষজনকে ‘লিগ্যাল এইড’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে; বিচারপতি এসএম জাহাঙ্গীর
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : “বিনা খরচে নিন আইনি সহায়তা, শেখ হাসিনা সরকার দিচ্ছেন এই নশ্চিয়তা’’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়ে তৃনমূল পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম বিস্তার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাইমচর উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি এবং বিচার প্রার্থী জনসাধারনের অংশগ্রহনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ বিচারপতি ও লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে আমাদের দেশে যে মামলা মোকাদ্দামা হয়। সেটা তো পারিবারিক ভাবে সমাধান করা যায়, প্রতিহত করা যায়। তারা কেন আইন ভুলে ঝগড়া বিবাদ করবে।
এ জন্য মানুষজনকে সচেতন করতে হবে। অনেক সময় বলা হয় কোর্টের মাটিও কিন্তু টাকা খায়। জনগনকে  বুঝাতে হবে কোর্ট আদালত কোন ভাল জায়গা না। এজন্য গ্রাম অঞ্চলের মানুষদেরকে সচেতন করতে হবে যাতে মানুষ ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত না হয়। এ হাইমচরের মানুষ অত্যান্ত অসহায়। ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন নদীর গর্ভে চলে গেছে। বাকি যারা আছেন কেযে কখন চলে যান তারই কোন ঠিক ঠিকানা নেই। কাজেই আপনারা সেচতন হোন। আসুন না আমরা নিরীহ মানুষজনের জন্য প্রচার করি। এ প্রচারের জন্য প্রশাসন যদি দ্বায়িত্ব নেন তাহলে আমরা অনেক দুর এগোতে পারবো।
এখনো গ্রামঅঞ্চলের মানুষ বুঝেনা লিগ্যাল এইড কি। লিগ্যাল এইডে কি হয়। লিগেল এইডে পৌছতে গিয়েও কিন্তু তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হয়। লিগ্যাল এইডে সরকারের টাকা দিয়ে অসহায় জনগন আইনগত সহযোগীতা পাবে।  এটা গ্রামঅঞ্চলের লোকজ জানে না। তাই আগে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের মানুষজনকে সচেতন করতে হবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কিন্তু মরণশীল, আমাদের সবাইকে মরে যেতে হবে। কেউ কিন্তু চ্যালেঞ্জ করে বেঁচে থাকতে পারববে না। মানুষ মরণশীল মানুষের কর্মটাই দুনিয়াতে থেকে যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের জন্য সেক্রিপাইজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় এদেশের মানুষজনের জন্য কাজ করে গেছেন। তাই আজও দেশে, গ্রামে, শহরে এবংকি আন্তর্জাতিক ভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রশারিত হচ্ছে। আশাকরি আপনারা যারা জনপ্রতিনিধি আছেন আপনারা নিরীহ মানুষজনের বিনামূল্যে, বিনা স্বার্থে সহযোগীতা করবেন।
সোমবার বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ সম্মুখে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে ও জেলা সিনিয়র যুগ্ম জজ সাকিব হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান, বিচারক  জেলা জজ)জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজবেগম ফারহানা ইসলাম, বিজ্ঞ জিপি আব্দুর রহমান, জেলা আইনজীবি  সমিতি সভাপতি এডভোকেট মো. কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম, আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান পাটওয়ারীপ্রমুখ।
এসময় উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী, হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফ উদ্দিনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’