শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কল্যাণপুরে সম্পত্তিগত বিরোধে ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ; নগদ টাকা লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২, ৫:১৭ পিএম
কল্যাণপুরে সম্পত্তিগত বিরোধে ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ; নগদ টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের আমানউল্লাহপুর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধে এক অসহায় পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর এবং টয়লেট ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে এবং বসত ঘরে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা লুট হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর রবিবার সকাল ৯টার দিকে আমানউল্লাহপুর গ্রামের মিলন খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তিগত সমস্যা নিয়ে গত মাসে মৃত- ফজল খানের পুত্র লোকমান খান, লালু খানের পুত্র লেয়াকত আলী ও ফোজদার খানের পুত্র মনির হোসেন বাদী হয়ে একই বাড়ির ও চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শহীদ উল্যাহ খান মাষ্টার গং এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে রবিবার সকালে ভুক্তভোগীদের না জানিয়ে শহীদ উল্যাহ খান মাষ্টারের পক্ষ থেকে এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে আসেন।

এসময় ভুক্তভোগীদের দেয়া একটি শর্ত মেনে না নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোকমান খানের স্ত্রী রান্না বান্না অবস্থায় তাদের রান্নাঘর ও বসতঘর এবং টয়লেট ভাঙচুর করেন এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র উলটপালট করে নগদ ২৩ হাজার টাকা নিয়ে যান শহীদ উল্যাহ মাষ্টারের বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সুমন খান, ভাতিজা আজম খান, হাসিম খান, কালু খান ও আজম খানের স্ত্রী ছালেহা বেগম।

Model Hospital

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার খান ও মরিয়ম বেগম বলেন, ঘটনারদিন সকাল ৯টার দিকে শহীদুল্লাহ্ খান মাষ্টার লোকমান খান গং এর কাউকেই না জানিয়ে তাদের পক্ষের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু এসময় তাদেরকে বলা হয়েছে যে, আমাদেরকে আগে জানালে আমরাও দু চারজন লোকজন রাখতাম। এখন এক পক্ষের শালিসি দিয়ে এ সমাধান কিভাবে হবে।

এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা ঐখান থেকে এগিয়ে এসে লোকমান খানের স্ত্রী রান্না করা অবস্থায় রান্নাঘর ও বসতঘর এবং বাথরুম ভাঙচুর করে চলে যায়। ভুক্তভোগী লোকমান খান বলেন, আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে সম্পত্তিগত চলমান সমস্যা নিয়ে আমরা মামলা করি। সেই সমস্যা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তারা আমাদের না জানিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আসেন। কিন্তু আমাদের পক্ষের কোন লোকজনই রাখার সুযোগ না দিলে আমাদের শর্ত ছিল যে, দুই পক্ষের উকিলের উপস্থিতিতে আমরা বসে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসবো। কিন্তু তারা এটা মেনে না নিয়ে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটির মধ্যে তারা রান্না চলমান অবস্থায় আমার রান্নাঘর ও বাথরুম ভেঙে চলে যান। এবং আমার ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র উলটপালট করে ঘরে থাকা ২৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এর আগেও ২০১৯ সালে ফাজিল খানের ছেলে আজম খানের নেতৃত্বে আমার চাচাতো ভাই লেয়াকত খানের বসতঘর কুপিয়ে তছনছ করে দিয়েছে এবং তাকে শারীরিক নির্যাতন করে গুরুত্বর আহত করেছেন কয়েকবার। এই বিষয়ে মোঃ শহীদুল্লাহ্ খান মাষ্টারের ছেলে ডা. নজিবুল্যাহ খান বলেন দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আমাদের এ সম্পত্তিটি একটি ভাওয়ালি সম্পদ। তাদের করা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

আমাদের সম্পত্তির উপর তাদের স্থাপিত রান্নাঘর ও বাথরুম হওয়ায় আমাদের ভাইয়েরা তা উচ্ছেদ করে দিয়েছে। তারা এতদিন আমাদের সম্পত্তির উপর দখলে ছিলেন। আমরাও এর একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’