শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই স্বামী হারালেন নববধূ কাকলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২, ৪:৪২ পিএম
মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই স্বামী হারালেন নববধূ কাকলী

মতলব উত্তর ব্যুরো : মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই স্বামী হারালেন কাকলী আক্তার নামে এক নববধূ! চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিয়ের ৪ দিন পর এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইসমাইলের মৃত্যুর খবরে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নির্বাক।

ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় নামাজে জানাযা শেষে নবাবপুর ঠেটালিয়া কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) ভোরে নিজ বাড়ি উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের ঠেটালিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইসমাইল হোসেন (২৬) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের ঠেটালিয়া গ্রামের হান্নান বেপারীর একমাত্র ছেলে। হান্নান বেপারীর ৪ কন্যা রয়েছে। ইসমাইল পার্শ্ববতী সিপাহিকান্দি বাজারে মুদি মনোহরী ব্যবসা করতো।

স্থানীয় লোকজন জানান, মুদি দোকানী ইসমাইল সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলতেন। তার আচার আচরণে সবাই সন্তোষ্ট ছিল। তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিল।

Model Hospital

আত্মীয় স্বজন সূত্রে জানা যায়, ৪ দিন আগে (সোমবার) উত্তর ফতেপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে কাকলী আক্তারের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

পরে ভোরর দিকে নিজ বাড়ির লোকজন আমড়া গাছের ওই যুবকের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মামাতো ভাই রাকিব হোসেন জানান, ইসমাইল হোসেন আমার ফুফাতো ভাই হলেও বন্ধুর মতো চলাচল’সহ সকল দুঃখ-সুখের কথা বলতো। তার মৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়।

বোন স্বপ্না আক্তার বলেন, আমরা একই ঘরে ছিলাম, ইসমাইল পাশের রুমে নববধুসহ ছিল। রাত ২টার দিকে জানতে পারি আমার ভাই ঘরে নেই। অনেক খোঁজখবর করি। রান্না ঘরের পিছনে আমড়া গাছের সাথে গলায় ওড়না পেছানো হাটুগারা অবস্থায় রয়েছে। দেখে ডাকচিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন এড়িয়ে আসে।

স্ত্রী কাকলী আক্তার বলেন, সোমবার বিয়ে হওয়ার পর থেকেই তিনি (ইসমাইল) স্বাভাবিক ভাবে আমার সাথে চলাফেরা করেছে। রাতে একই সাথে ছিলাম, তিনি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ার পূর্বে আমার চোখে ড্রপ দিয়েছেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারে এটা বিশ্বাস করতে পারছিনা।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’