রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৪৯ এম
চাঁদপুরে সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর উপজেলা শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাহতলী পাইকদী সড়কের পাশে খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা বড় ধরণের এই মার্কেট নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে সেচের খাল দখল করে দীর্ঘদিন বালু ও ইটের ব্যবসা করে আসছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। সড়কের ওপর ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। একই সাথে নষ্ট হচ্ছে সরকারের মূল্যবান পাকা সড়ক।

সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখাগেছে, বিশাল আকৃতির বালু মহাল। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গত কয়েকবছর গড়ে উঠেছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গ্রামাঞ্চলে ইট, বালু, সিমেন্ট, পাথরের চাহিদা থাকায় খুব দ্রুত সময় এসব ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়তে থাকে। চাহিদার কারণে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরী করার জন্য সরকারি জায়গা দখল শুরু করেন। এখনো তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টিন ও কাঠ দিয়ে সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত। তবে পাকা করে মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পড়েন অবৈধ দখলকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের শাহতলী রেল স্টেশনের দক্ষিণের সড়কে শুরু থেকে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের দখল। পাশে বসতবাড়ী থাকলেও তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। ধুলা-বালি উড়ে গিয়ে এসব বাড়ী ঘড় এবং গাছের পাতার রং পরিবর্তন হয়েগেছে। এসব ব্যবসার জন্য পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। ইট, বালু, পাথর বহন করে ট্রাক ও ট্রাক্টর উন্ম্ক্তু সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। পরিবহনের ধুলা বালু শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চোখে মুখে গিয়ে পড়ছে। প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয় না। কারণ তারা খুবই প্রভাবশালী।

ওই এলাকায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মো. মনির কারী, মো. শফিক কবিরাজ, সোহেল কারী। এদের মধ্যে মনির কারী ও সোহেল কারী নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে মার্কেট নির্মাণ কাজ করছেন।

Model Hospital

এই বিষয়ে মনির কারী বলেন, মার্কেট নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় উপজেলা পরিষদ থেকে লোক এসে বাঁধা দিয়েছে। এখন নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছি।

সোহেল কারী বলেন, আমার বর্তমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও সরকারি জায়গার ওপর। টিন ও কাঠের তৈরী। এটি যে কোন সময় উচ্ছেদ করা যাবে। তবে ছোট ভাইরা নতুন করে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি। তারা আমার কথা মানেনি।

শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নান্টু বলেন, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণের কথা আমিও শুনেছি। তবে এই বিষয়ে উপজেলা থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ইমরুল কায়েস মির্জা কিরণ বলেন, খালের উপর সেচ গেট আমাদের হলেও পুরাতন। কেউ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ এই বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চাঁদপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ফুয়াদ আহসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সড়কের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা যাবে না। আমি বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ এম
চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সদর উপজেলা বিএনপি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে জমি-জমা সংক্রান্ত সালিশে জড়ানো এবং সালিশের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানির অভিযোগে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) তারিখের ওই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন ও সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী ঢালী।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, জমি-জমা সংক্রান্ত দেনদরবার ও সালিশ বৈঠকে না জড়ানোর জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে সব নেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। স্বপন মাহমুদকেও আগে চিঠি ও মৌখিকভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বপন মাহমুদ ৪ অক্টোবর রাতে সালিশ বৈঠকের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করেছেন।

Model Hospital

এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।