বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেয়ায় বাঁচল সাপে-কাটা শিশু ইসরাত

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেয়ায় বাঁচল সাপে-কাটা শিশু ইসরাত

জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা শিশুকে অ্যান্টিভেনম

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা এক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে ইসরাত (৮) নামের এক শিশু। সে উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে যাওয়ার পর সাপের কামড়ের শিকার হয় শিশু ইসরাত। পরিবারের লোকজন কোনো সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোয়াইব হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন।

Model Hospital

এসময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে তার চোখের পাতা ঝুলে পড়া ও খিচুনির  মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স ও উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তাদের সমন্বিত দল অত্যন্ত নিবিড়ভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নিয়মিতভাবেই সাপে-কাটা রোগীদের জরুরি বিভাগে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনায় এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে পারায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এবিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোহেল রানা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে আনা উচিত। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় অগ্রগতি ও ইতিবাচক বার্তা।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।