সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেয়ায় বাঁচল সাপে-কাটা শিশু ইসরাত
জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা শিশুকে অ্যান্টিভেনম
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা এক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে ইসরাত (৮) নামের এক শিশু। সে উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে যাওয়ার পর সাপের কামড়ের শিকার হয় শিশু ইসরাত। পরিবারের লোকজন কোনো সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোয়াইব হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন।

এসময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে তার চোখের পাতা ঝুলে পড়া ও খিচুনির মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স ও উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তাদের সমন্বিত দল অত্যন্ত নিবিড়ভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নিয়মিতভাবেই সাপে-কাটা রোগীদের জরুরি বিভাগে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনায় এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে পারায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এবিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোহেল রানা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে আনা উচিত। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় অগ্রগতি ও ইতিবাচক বার্তা।





