রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিশ্বকাপ ফুটবলে কাতারের সমর্থনে শোভাযাত্রার আয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৪৬ পিএম
শাহরাস্তিতে বিশ্বকাপ ফুটবলে কাতারের সমর্থনে শোভাযাত্রার আয়োজন
শাহরাস্তি প্রতিনিধি : ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি বা স্পেন নয়, এরা সবাই এশিয়ার দেশ কাতারের সাপোর্টার। তাই কাতারের সাফল্য কামনায় আয়োজন করলেন ব্যতিক্রমী এক  উদ্যোগ। প্রায় ৫০০ ফুট লম্বা কাতারের জাতীয় পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনার আয়োজন করেন একটি গ্রামের কাতার প্রবাসীরা।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তির উপজেলা চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের উঘারিয়া গ্রামের কাতার প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রিয় দল কাতারের সাফল্য কামনায় এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী ব্রাজিল আর্জেন্টিনার হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কাতার প্রবাসী। আর কাতারের এমন সহযোগিতার কারণেই ব্রাজিল আর্জেন্টিনা বা অন্য দল ছাড়া কাতারের সাপোর্ট করছে তারা। আর ব্যতিক্রমী এমন আয়োজনে একাত্মতা পোষণ করে অংশগ্রহণ করেন এলাকার ছোট বড় বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ।
উঘারিয়া গ্রামের মহসিন দেওয়ান, ইদ্রিস দেওয়ান, আরমান হোসেন, ফারুক, ও জাহাঙ্গীর আলম নয়নসহ বেশ কয়েকজন জানান, মূলত কাতারকে ভালো লাগার কারণ হচ্ছে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কাতার প্রবাসী। কাতার মুসলিম দেশ হিসেবে নয়, সেখানে আমাদের গ্রামের শত শত মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে এবং দেশের রেমিট্যান্স অর্জন হচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে কাতারে এবং কাতারের নিজস্ব দল রয়েছে। তাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা নয় আমরা কাতারকে সাপোর্ট করছি। আশা করছি কাতার খুব ভালো খেলা উপহার দিবে।
কাতার প্রবাসী এবং পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনার অর্জনকারী জাহিদুল ইসলাম ও খায়ের উদ্দিন সুমন বলেন, আমরা যে আয়োজন করেছি, এখানে আসা স্থানীয়দের মধ্যে কাতারে অনেকের পরিবারের সদস্যই রয়েছেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া কাতারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনায় আমরা ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ছেড়ে এ বছর কাতারের সাপোর্টার। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কাতারের সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।