শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজের শত বছর পুরনো মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৫৭ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজের শত বছর পুরনো মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সরকারি কলেজের শত বছরের পুরনো মহামূল্যবান প্রায় ৩০ টি গাছ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ করেছে।

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে একপ্রকার স্বেচ্ছাচারিতা করে গাছগুলো তড়িঘড়ি করে বিক্রি করেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা ও নিলামে বিক্রি করতে হলে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে সবায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারি কলেজের গাছ কাটতে জেলা প্রশাসক, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কিংবা সহকারী প্রকৌশলী ,বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিয়ে ৪ সদস্য কমিটির গঠন করতে হবে।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছের পরিমাণ গাছের বাজার মূল্য নির্ধারণ ও গাছ বিক্রি সিডিউল তৈরি করবেন। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে নিলাম ও টেন্ডার এর বিক্রি করতে হবে।

Model Hospital

বিক্রির টাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা রাখবেন। গাছ কাটার প্রতিবেদন মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। কিন্তু এ সকল নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি কলেজে শত বছরের পুরনো কাজগুলো এভাবে কেটে ফেলায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কোন খুঁটির বলে ও কার ইন্দনে এত মহামূল্যবান গাছগুলো খুব দ্রুতগতিতে কেটে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনাটি সশস্ত্র অধিদপ্তর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার যোগ্য দাবি জানানোর সচেতন মহল।

চাঁদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, চাঁদপুর সরকারি কলেজের গেট নির্মাণ করার সময় সেখানে কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছিল সেগুলি আমরা মূল্য নির্ধারণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করেছি। তবে পরবর্তীতে কলেজ প্রাঙ্গণের ভিতরে যে সকল গাছগুলো কেটেছে সেগুলো নিয়ম বহির্ভূত করেছে। কোন কমিটি ঘটন না করেই সেগুলো টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই কেটে ফেলেছে। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস কাছে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের বাউন্ডারির দেওয়াল নির্মাণের যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে মূলত কাজ করার প্রয়োজনে গাছগুলো কেটেছে। এই গাছগুলো বন বিভাগ থেকে কোন মূল্য নির্ধারণ ও কোন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’