শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পৌর আ’লীগের সভাপতি জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৪৪ পিএম
শাহরাস্তিতে পৌর আ’লীগের সভাপতি জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব
আজকের নির্বাচিত নেতৃত্ব ২৪ সালের  নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে
……. মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি
:: মো. মাসুদ  রানা : শাহরাস্তিতে  পৌরসভা  আ’লীগের বহু প্রতীক্ষিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন  সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৭ -নভেম্বর)  দিনব্যাপী উপজেলার মেহের ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও  উপজেলা  আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.  কামরুজ্জামান মিন্টুর প্রাণচঞ্চল  সঞ্চালনায় সাবেক পৌরসভা  আ’লীগের  আহবায়ক  আলহাজ্ব  আব্দুল  লতিফের সভাপতিত্বে  এতে  প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য দেন,  সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।
তিনি বক্তব্য বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বৈশ্বিক করোনা, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিশ্ব রাজনীতিতে যে মন্দা ভাব চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করছে।
শাহরাস্তি পৌর আ’লীগের এ সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা আসন্ন ২৪ সালের নির্বাচনের জন্য উপযোগী একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের উপযোগী   কমিটি উপহার দিবেন। যাতে এই নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও দক্ষতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অধিষ্ঠিত হতে পারে।
এছাড়া তিনি উক্ত কাউন্সিলের আয়োজনে চাঁদপুর জেলা আলীগ, শাহরাস্তি উপজেলা আলীগ, পৌর আ’লীগের সকল নেতৃবৃন্দকে  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া পুরাতন নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন নেতৃত্ব কে সাধুবাদ জানান।
দিনশেষে উক্ত পৌর সম্মেলনে সাবেক উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আহছান মঞ্জুরুল  ইসলাম জুয়েল ২শ’ভোট পেয়ে পৌরসভা আলীগের সভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মাহবুব আলম চৌধুরী ১শ’ ৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর জেলা আ’লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া  ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা আলীগের সহ-সভাপতি আঃ রব ভূঁইয়া, জেলা যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক আহসান উল্লাহ আখন্দ, শ্রম সম্পাদক  নরুল ইসলাম মিয়াজী, জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাছের পাটওয়ারী বাচ্চু, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, শাহরাস্তি উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার, জেলা পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন মিয়াজী, শাহরাস্তি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল, বিল্লাল হোসেন তুষার, চৌধুরী মোস্তফা কামাল, উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ইলিয়াস মিন্টু, উপজেলা আ’লীগের  প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, দপ্তর সম্পাদক সফিউল আযম স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সকাল থেকে সম্মেলনস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী,আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের এবং তৃণমূল উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মী সমর্থক দলে দলে ভিড় জমাতে থাকেন।
আগামীকাল একই মাঠে উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’