বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনিয়ন পরিষদের সেবাগুলো জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে হবে: জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:১৬ পিএম
ইউনিয়ন পরিষদের সেবাগুলো জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে হবে: জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

সজীব খান: চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১বছর পূর্তি এবং পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেছেন, সরকারের প্রতিটি সেবাই এখন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারের সেবাগুলো জনগনের দৌড় গোড়ায় পৌছে দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নগুলো জনসাধারণকে জানাতে হবে। সাধারণ জনগনকে ইউনিয়ন পরিষদমুখী করতে হবে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারগন জনগনের সেবা প্রদান করেন, তাই ইউনিয়ন পরিষদের অনেক গুরুত্ব ও দায়িত্ব রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ভাতাগুলো সঠিক ভাবে বন্টন করে জনসাধারনের মাঝে দিতে হবে। ভাতার তালিকাগুলো যাচাই বাচাই করে দিলে সঠিক ব্যাক্তি পাবে। কোন প্রকার সজন প্রীতি হবেন।

ইউনিয়ন পরিষদ তাদের কাজগুলো তালিকা করে এগিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন হবে, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে হলে ইউনিয়নের সকল মানুষকে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সকলের সমন্বয়ে কাজ করলে উন্নয়নের গতিপদ দ্রুত প্রশারিত হবে। গ্রাম হবে শহড়,শহড়ের সকল সুবিধা এখন গ্রামে চলে আসছে। পরিকল্পনা নিয়ে করলে জনসাধারনের মঙ্গলে প্রতিটি কাজই আসবে। রাস্তাঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

তিনি বলেন বর্তমান শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে, শিক্ষার মান ভাল করতে হবে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে এখন ভবন হয়েছে, মানসম্মত শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে, বিদ্যালয়গুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে হবে। পঞ্চবার্ষিকী বিষয়গুলো ভাল ভাবে প্রচার করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্য বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ রুপান্তরিত হবে।

Model Hospital

২৯ জানুয়ারী রবিবার সকাল ১০টায় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি তার বক্তব্য এ কথা বলেন ।

শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টুর সভাপতিত্বে ইউপি সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয় গণসংযোগ অধিদপ্তরে পরিচালক ওমর ফারুক দেওয়ান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শরীফ হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, ওয়ার্ড সদস্য সোহাগ হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হেদায়েত উল্ল্যাহ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইউব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্ল্যাহ পাটওয়ারী, ইব্রাহীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাশিম খান, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান খান মিলন, খন্দকার শাহিদুল ইসলাম মাহফুজ, শাহমাহমুদপুর ইউপি সদস্য নাজির হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন মিজি, মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, বিল্লাল খান, জিয়াউর রহমান তপদার, ইব্রাহীম তালুকদার, হাবিবুর রহমান, কবির হোসেন রনি, মহিলা সদস্য ফিরোজা বেগম, মুক্তা বেগম, লাকী আক্তার, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটার আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন পাঠ করেন মাওলানা মোঃ সালাউদ্দিন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।