শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ নির্মানে ধীরগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৪১ পিএম
ফরিদগঞ্জে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ নির্মানে ধীরগতি

এস এম ইকবাল: মজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে মোট ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থায়ানে বরাদ্দ করা স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ঠিকাদারগন যথাসময়ে বিল না পাওয়ার অজুহাতে বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রেখেছে আবার কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এ নিয়ে উপকার ভোগী ও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তুুষ বিরাজ করতে দেখা যায়। যথাসময়ে কাজের বিল না পাওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যেও এক ধরনরে অস্থিরতা বিরাজ করতে দেখা যায়।

অপরদিকে এই কাজে ঠিকাদারের লস (ক্ষতি) হবে বলে বিভিন্ন ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে কৌশলে নানা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা হয়রানী হওয়ার ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ দেয়ার সাহস পাচ্ছে না। যারা টাকা দিতে চাচ্ছে না তাদের কাজ নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবেই বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে বলে নানা অভিযোগ উঠেছে। আবার কোন কোন বীর নিবাসের কিয়দাংশ কাজ করে বিল না পাওয়ার অজুহাতে ওই কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দেয়ালে শেওলা পড়ে আছে।

বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় ৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে এখন কেউ কেউ অন্যর ঘরে আবার কেউবা ছাপড়া ঘরে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কবে নাগাদ বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ করা হবে তা কেউই সুনির্র্দিষ্ট ভাবে বলতে পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস নির্মানের জন্য তালিকা প্রেরন করেন চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাংসদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান। এই তালিকা যাছাই বাছাই শেষে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মান কল্পে উপজেলা পিআইও অফিসের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি বীর নিবাসের জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারন করা হয়। ১৬ জন ঠিকাদার উক্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওয়ার্ক ওয়াডার হাতে পেয়ে গত অক্টোবর মাসে এর কাজ শুরু করেন। গত প্রায় ৩ মাসে ১টি বীর নিবাস নির্মান কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অনেকেই বলছে ঠিক মতে কাজ করলে প্রায় এক মাসের মধ্যেই প্রতিটি বীর নিবাসের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ।

Model Hospital

এদিকে যে সব মুক্তিযোদ্ধা তাদের পূর্বেও টিনসেড ঘর ভেংগে ওই স্থানে বীর নিবাস নির্মানের জন্য ঠিকাদারকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। কাজটি চলমান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা কেউ কেউ থাকছেন পাক ঘ্ের আবার কেউবা থাকছেন পাশে নির্মান করা ছাপড়া ঘরে। এক রকম বাধ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, বীর নিবাস পাওয়া কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোকজন জানান, কাজ শুরু থেকে গত কয়েকমাস যাবৎ অন্যের ঘরে থাকতে হচ্ছে। কেউবা থাকছেন পাশের ছাপড়া ঘরে।

অসচছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এম ইদ্রিস সিদ্দিকীর স্বাক্ষর ও স্বারক নং সম্বলিত গত ২৫ জানুয়ারী একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঠিকাদার বীর নিবাসের ছাদ ঢালাইয়ের পর নির্মান কাজ চলমান রাখলে শতকরা ২৫ শতাংশ বিল পাবে। এ ছাড়া ফিটিং ওয়ার্ক কমপ্লিট করে বীর নিবাস সম্পূর্ন বসবাসের উপযোগী করলে ২য় চলতি বিল ২৫ শতাংশ পাবে। বীর নিবাসের বাহিরের রং, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার লোগো স্থাপন করে বীর নিবাস,মজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার লেখাসহ হস্তান্তর যোগ্য হলে ঠিকাদারগন তৃতীয় চলতি বিল ২৫ শতাংশ বিল পাবে। মন্ত্রনালয়ের দেয়া এই সর্ত পূরন করেও বিল না যাওয়ায় ঠিকাদারগন মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

অপরদিকে অসাধু ঠিকাদার উক্ত কাজকে লস প্রজেক্ট দেখিয়ে নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। নিম্নমান সামগ্রী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও ঠিকাদারের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়। কাজ ভালো করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পর্যায়ে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জৈনিক মুক্তিযোদ্ধা সাহেবগঞ্জ গ্রামের মুকবুল আহাম্মেদ তার নামে বরাদ্দ হওয়া বীর নিবাস করার জন্য নিম্নমানের ইটদেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রতন পাটওয়ারীকে তার কাজ করতে বাধা দেয়। নিরুপায় হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল আহাম্মেদ এ ঠিকাদেরর কাজের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একই অভিযোগ দিয়েছে ওই এলাকার আরেক মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান।

অপরদিকে ঠিকাদার কাজ করেও সরকারের বেঁধে দেয়া স্বর্ত মতে বিল না পাওয়ায় বেশ কয়টি বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা , ঠিকাদার ও পিআইও অফিসে চলছে নানা অস্থিরতা।

বীর নিবাস নির্মান কাজের এক ঠিকাদার মামুনুর রশিদ পাঠান ও জাকির হোসেন বলেন, এই কাজ করতে সরকারেরই নিয়মনীতি মোতাবেক আমাদের কাংক্ষিত বিল পাচ্ছি না। বিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে।

আরেক ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে কাজ করেও যদি বিল না পাই তাহলে কি ভাবে কাজ করবো। এই কাজের বিল পেতে এতো বিড়ম্বনা পোহাতে হবে তা আগে জানলে একটি কাজেরও টেন্ডারে অংশ গ্রহন করতাম না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা (পিআইও) মিল্টন দস্তীদার বীর নিবাস নির্মান কাজের ধীর গতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে বিল দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিল না পেয়ে বেশ কয়জন ঠিকাদার কাজে ধীর গতি রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, উক্ত কাজ ভালো করার নামে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউতো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital