শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৫৯ পিএম
শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর যৌথ আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ১৪৩০ উদযাপন করা হয়েছে।

১৪এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১০টায় কলেজ মিলনায়তনে কলেজ অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকে অত্র প্রতিষ্ঠান গুলোর যৌথ আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলা ১৪৩০ সালের প্রথম দিন আজকে অথাৎ আজকে শুভ নববর্ষ । বাঙ্গালী জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। অনেক আগে থেকে এ পহেলা বৈশাখ পালন করা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম। আমরা আজকে নতুন ১৪৩০বর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছি। বৈশাখী মেলা এ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষনীয় অংশ। বাঙ্গালীরা পহেলা বৈশাখ উৎসাহ উদ্দিপনার সাথে পালন করে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশপ্রেমিক হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগড় হতে হবে নতুন প্রজন্মকে। সর্বোপরি ভালোভাবে পড়াশুনা করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে শিক্ষার্থীদের। আজকে পুরাতন গ্লানি দূর করে নতুনকে স্বাগত জানাতে হবে।

Model Hospital

২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: কামরুল হাসান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার, জিলানী চিশতী উবির সহকারি প্রধান শিক্ষক মো: শাহাদাৎ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, জিলানী চিশতী কলেজের প্রভাষক মো: হানিফ মিয়া, প্রভাষক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ, প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: গোলাম সারওয়ার, সহকারি অধ্যাপক সাহেরা আক্তার, সহকারি অধ্যাপক সামিমা আক্তার, সিনিয়র প্রভাষক মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, প্রভাষক মো: হাবিবুর রহমান, প্রভাষক মো: শাহাদাত হোসেন, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, শরীরচর্চা শিক্ষক হালিমা আক্তার, জিলান চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার, সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুৃল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক লুৎফুর রহমান, সহকারি শিক্ষক বিপুল চন্দ্র নন্দী, সহকারি শিক্ষক মো: গিয়াস উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মো: রবিউল আউয়াল খান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: ইদ্রিস আলী, সহকারি শিক্ষক মো: দীপঙ্কর দে, সহকারি শিক্ষক মো: নেছার আহমেদ খান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা, সহকারি শিক্ষকা শাহিনা আক্তার, সহকারি শিক্ষিকা নাজিয়া মাহবুব, সহকারি শিক্ষক মো: কবির হোসেন চৌধুরী, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার, সহকারি শিক্ষিকা মোহসিনা আক্তার, সহকারি শিক্ষিকা রুকাইয়া খাতুন, সহকারি শিক্ষিকা তানজিনা খানম, সহকারি শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার, সহকারি শিক্ষক মো: ইয়াছিন খান, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, হিসাব সহকারি মো: মেহেদী হাসান, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: হযরত আলী সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম। শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও এসো হে বৈশাখ গান সমবেত কন্ঠে পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ। তিনি বক্তবের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’