শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদকে সামনে রেখে সকাল থেকে রাত অবদি তীব্র যানজট আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ চাঁদপুর শহর

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩, ৫:৩৫ পিএম
ঈদকে সামনে রেখে সকাল থেকে রাত অবদি তীব্র যানজট আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ চাঁদপুর শহর
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তীব্র রোদ আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চাঁদপুর শহর। সকাল থেকে রাত অবদি চাঁদপুর শহরের সবগুলো সড়কে লেগে থাকে তীব্র যানজট।
একদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ অন্যদিকে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। শহরকে যানজটমুক্ত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ এবং তাদেরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) রাত ৯টায় চাঁদপুর শহরের মূল দুইটি সড়ক (মুক্তিযোদ্ধা সড়ক ও আঃ করিম পাটওয়ারী সড়ক) এ তীব্র যানজটের দেখা মেলে। ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে হয়েছে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মত। শহরের ওয়ারলেস মোড়, বাসস্ট্যান্ড, ছায়াবানী মোড়, চিত্রলেখা মোড়, ট্রাক রোড মোড়, হাসান আলী মাঠ, শাপলা চত্ত্বর, প্রেসক্লাব সড়ক মোড়, পালবাজার মোড়, লঞ্চঘাটসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ সহ স্কাউট সদস্যরা।
এতে তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে চাঁদপুর শহরবাসী। নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশসহ স্কাউট সদস্যরা। সেই সাথে শহরে আগত ঘরমুখো মানুষসহ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ, সদর মডেল থানা পুলিশসহ নৌ পুলিশ ও জিআরপি পুলিশ সদস্যরা।
যানজট নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, চাঁদপুর শহরে চলাচলকারী সিএনজি, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত আছেন।
রোভার স্কাউট সদস্যদের একজন ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ও বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দুই শিফটে ৩৫ জন রোভার স্কাউটস সদস্য প্রতিদিন লেগে থাকা এই যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহযোগিতা করে আসছেন। তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত করতে তিনজন ইনচার্জ ও দুইজন টিম লিডার নিয়োজিত আছেন।
চাঁদপুর শহরের প্রতিদিনের লেগে থাকা তীব্র যানজটের বিষয়ে কথা বলতে চাঁদপুর সদরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’