শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে সর্বস্তরের জনগণের সাথে এমপি নুরুল আমিন রুহুলের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

মনিরুল ইসলাম মনির  প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৪৯ পিএম
মতলবে সর্বস্তরের জনগণের সাথে এমপি নুরুল আমিন রুহুলের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
চাঁদপুর-২ ( মতলব উত্তর- দক্ষিণ আসনের) সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন।
২২ এপ্রিল (শনিবার) সকালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মডেল মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে মতলব পৌরসভার আয়োজনে নিউ হোস্টেল মাঠে ঈদের জামাতে নামাজ শেষে মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এমপি। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাংসদের সাথে দেখা করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরে চাঁদপুর-২ নির্বাচনী এলাকার মতলব পৌরসভা, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন, নারায়নপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দরবার শরীফ, নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফরাজিকান্দি দরবার শরীফে আসরের নামাজ আদায় করে ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন, সন্ধ্যায় নতুন বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে ছুটে যান নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, সেখানে রাত ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এসময় তিনি সবার খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা দেন। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন ঈদের দিনে প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকে নিজেদের বাড়িতে তাঁকে নিমন্ত্রণ করেন।
রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যের নিজ বাসভবন নউরী গ্রামে ঈদের শুভেচ্ছা বিণিময় করতে আসেন। এসময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যর বাড়ীর আঙ্গিনা টইটম্বুর হয়ে উঠে। এক প্রকার উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দুপুরের এমপি নুরুল আমিন রুহুলের নিমন্ত্রণে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন। তার পূর্বে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল আমিন রুহুল বলেন,  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল আওয়ামী লীগের নেতারা যেন সাধারণ মানুষের মাঝে নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেন। তার ধারাবাহিকতায় আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে চলে এসেছি।
তিনি বলেন, মতলব উত্তর – দক্ষিণের মানুষ আমার প্রাণশক্তি। এরা সবাই আমার বৃহৎ পরিবারের সদস্য, আমার আত্মার আত্মীয়। তাই সুখে দুঃখে সব সময় আমি মতলব উত্তর – দক্ষিণের সাধারণ মানুষের সাথে থাকতে ভালোবাসি। সাধারণ মানুষের মুখের হাসি, তাদের শরীরের গন্ধ আমাকে প্রাণশক্তি জোগায়। যতদিন বাঁচি সবাইকে নিয়ে সবার সাথে বাঁচতে চাই।
পরিশেষে তিনি মতলব উত্তর – দক্ষিণে গত ৪বছরের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুসের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএইচএম কবির আহাম্মেদ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন, মতলব পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন লিটন, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান প্রধান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য সরকার মো. আলাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তাসলিমা আক্তার আখিঁ, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’