শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পূর্ব শাহতলী যুব সমাজের উদ্যোগে ফুটবল প্রীতি ম্যাচ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৪৭ পিএম
পূর্ব শাহতলী যুব সমাজের উদ্যোগে ফুটবল প্রীতি ম্যাচ সম্পন্ন
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পূর্ব শাহতলী যুব সমাজের উদ্যোগে ফুটবল প্রীতি ম্যাচে সম্পন্ন হয়েছে।
২৩এপ্রিল (রবিবার) বিকাল ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল প্রীতিম্যাচের শুভ উদ্ধোধন করেন প্রধান অতিথি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।
উদ্বোধন শেষে শাহতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন তপদার ভূট্টোর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, খেলাধূলা মনকে প্রফুল্ল করে। ফুটবল খেলাধূলার মধ্যে প্রাচীনতম খেলা। আজকে তোমরা যুবকরা খেলার যে আয়োজন করেছো এই আয়োজনকে স্বাগত জানাই। খেলাধূলায় হারজিত থাকবে। যারা এখন হেরেছো, তারা আগামীতে ভালো করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। খেলাধূলার মাধ্যমে দেহ ও মন সুস্থ্য থাকে। যারা ভালো কাজ করে আমরা সবাই তাদের সাথেই থাকতে চাই, তাদের কাজে সহযোহিতা করি। তোমাদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদক সমাজের জন্য একটি মারাত্বক ভয়ানক ব্যধি। যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করে তাদের তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক কে না বলতে হবে। যারা মাদকের সাথে জড়িত হবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। অপরাধীদের আমরা বিশেষ করে মাদক, ইভটিজিং এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তোমরা কেউ কখনো মাদকের সাথে জড়িত হবেনা। সমাজে একজন মাদক ব্যবসায়ী থাকলে সমাজ ও পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। শাহতলী উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি প্রচীনতম প্রতিষ্ঠান। তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। যারা আজকের এ খেলার আয়োজন করেছো, তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
পূর্ব শাহতলী যুব সমাজের প্রচার সম্পাদক মো: রিয়াজ রহমান এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিন কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো: ইমরান হক, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার মিসেস ফিরোজা বেগম, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শাহতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও পূর্ব ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী, ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, স্থানীয় মো: তাজুল ইসলাম শুক্কুর।
ফুটবল খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন, পূর্ব ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারি শিক্ষক গৌতম চন্দ্র শীল, রাইসম্যান এর দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় মো: সুমন মিজি, মো: বিল্লাল গাজী। খেলায় সিনিয়র দল ৩গোলে জুনিয়র দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান ট্রপি অর্জন করেন। খেলার প্রথম ১৫মিনিটে সিনিয়র দল ৩টি গোল দিলে, জুনিয়র দল শূণ্য গোলে রানার্সআপ হয়।
এসময় খেলায় চ্যাম্পিয়ন সিনিয়র দলের ক্যাপ্টেন মো: মামুন গাজী  ও রানার্স আপ জুনিয়র দলের ক্যাপ্টেন মো: রাব্বি গাজীর হাতে ট্রপি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
খেলার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো: শুভ এবং অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। শুরুতেই প্রধান অতিথি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী খেলার ট্রপি উন্মোচন করেন। অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জার্সি উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি’র বক্তব্য রাখেন শাহতলী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন তপদার ভুট্টো। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’