শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে লুটতরাজের রাজত্ব চলছে : হাজীগঞ্জে ঈদ পূনর্মিলণীতে সৈয়দ বাহাদুর শাহ্

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৫৬ পিএম
দেশে লুটতরাজের রাজত্ব চলছে : হাজীগঞ্জে ঈদ পূনর্মিলণীতে সৈয়দ বাহাদুর শাহ্
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ হাজীগঞ্জ উপজেলার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পূনর্মিলণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ বলেন, দেশে লুটতরাজের রাজত্ব চলছে।  গ্রামের একজন পাতি নেতাও রাজনৈতিক প্রভাবে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। এর একমাত্র কারণ,  মানুষের মধ্যে এখন আর ত্বাকওয়া নাই।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান জননেতা পীর আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের মনে ত্বাকওয়া থাকলে বাংলাদেশ দূর্ণীতির উর্ভর ভূমি হতো না। অর্থ উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে রাজনীতিকে তারা বেছে নিয়েছে।

ষোলো কোটি মানুষের হক্ব নষ্টকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ নিজের হক্বের বিষয়ে ক্ষমা করতেও পারেন, আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু বান্দার হক্ব তিনি কশ্মিণ কালেও ক্ষমা করবেন না। যতোক্ষণ পর্যন্ত জনগণ ক্ষমা না করেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক সহযোগীতা না করলে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো হয়ে যেতো। এটা একমাত্র আল্লাহর রহমতেই সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে আল্লাহর অলিগণের বদৌলতে বিশ্বব্যাংক আমাদেরকে ঋণ দিয়েছেন। অলি আল্লাহদের কারনেই আমরা আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হই।

Model Hospital

তিনি বিশ্বব্যাংকের ঋণের বিষয়ে আরও বলেন, এই ঋণ জনগণের জন্য দায়। তাই ঋণ পরিশোধ করতে হলে সংসদে ত্বাকওয়াবান ব্যক্তিরা যেতে হবে। তাহলেই আমানতের খিয়ানত হবে না।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন ‘এবার রাতে ভোট হবে না।’ একাদশ নির্বাচনের মতো দ্বাদশ নির্বাচন হবে না। আমরাও আশ্বস্ত হয়েছি।

চট্টগ্রামের উপ-নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি অগ্নি পরিক্ষা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ৩শ’ টি আসনে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে ইসলামিক ফ্রন্ট। আপনাদেরকে সদা-সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ কমপ্লেক্স কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ হাজীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন মিয়াজী।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ হাজীগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি মাস্টার হেলাল আহমেদ ও ইসলামী ছাত্রসেনা হাজীগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মোঃ মুমিনুল ইসলাম রুবেল।

উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আল্লামা মোহাম্মদ আলী নক্সবন্দী, সৈয়দ মাহমুদ শাহ্ মোজাদ্দেদী, হাজীগঞ্জ উপজেলা সহসভাপতি হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম আনসারী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোঃ মনজুর আলম পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ বদিউজ্জামান আল আবেদী, শাহরাস্তি উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ ইউসুফ হাসান মাহমূদী, হাজীগঞ্জ উপজেলা সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুবাইর আল মাহমুদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামাল মিয়াজী সহ উপজেলা ও পৌর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’