শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩, ২:১৩ পিএম
শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে গেছেন। মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, কর্ণফুলী টানেল, ফোর লেন ও এইট লেনের রাস্তা করেছেন। তিনি বা তার দল ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। এই আস্থা আমাদের রাখতে হবে।

২৬ এপ্রিল বুধবার বিকালে উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আনন্দবাজারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শাড়ি লুঙ্গী বিতরণ কালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম তিনি একথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ফরাজীকান্দি ও জহিরাবাদ ইউনিয়নের দরিদ্রদের মাঝে শাড়ী লুঙ্গি বিতরণ কালে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসান। ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমদ।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সদস্য আরিফ উল্যাহ সরকার, মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন মাষ্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী ইলিয়াছুর রহমান, ঢাকা পলিটেকনিক্যালের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, চাঁদপুর বারের এপিপি অ্যাড. জসিম উদ্দিন, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা খোকন প্রধান, আবদুল মজিদ খান, তাজুল ইসলাম, জাকির হোসেন, জহিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন কবিরাজ, জহিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নেছার উদ্দিন মিশন প্রমুখ।

Model Hospital

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিষ্টার জুয়েল সরকার, মেঘনা ধনাগোদা পানি ফেডারেশনের সভাপতি শাহীন চৌধুরী, ইসলামবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন মুকুল সরকার, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি নজির আহমেদ মাষ্টার, ষাটনল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ভুলন চৌধুধী, প্রমুখ।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, অনেক উন্নয়ন হয়েছে, এই উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত থাকুক এটা আমরা চাই। আমি একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, আওয়ামী লীগার হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মনে করি এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নতির জন্য আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর দর্শনের কোনো বিকল্প নেই, শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।তাই তার পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’