শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে ফরিদগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্রের মহড়া, আহত ১

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:২৩ এম
ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে ফরিদগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্রের মহড়া, আহত ১
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। কখনও সিনিয়র-জুনিয়র, কখনও মাদক, কখনও মেয়ে সংক্রান্ত বিষয় ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় মহড়া দেওয়ায় আতঙ্কিত হচ্ছে পথচারী ও সাধারণ জনগণ।
এদিকে ২৬ এপ্রিল বুধবার রাতে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের গোবারচিত্রা এলাকাসহ মূলপাড়া একতা বাজারে প্রায় ২০ জনকে অস্রের মহড়া দিতে দেখা যায়।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, এক মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করায় তার চাচাতো ভাই জৈনক ওয়াহিদ (১৭) বারবার তাকে সতর্ক করে। তাতে কর্নপাত না করে বুধবার সন্ধায় হৃদয় মোবাইল ফোনে ওয়াহিদকে ডেকে আনে। পরে জাহিদ ও হৃদয়সহ কয়েকজন মিলে ওয়াহিদেকে মারতে থাকে। তার ডাক চিৎকারকে স্থানীয়রা উভয়কে নিয়ে তা সমাধানের করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে রাসেল মোবাইল ফোনে তার সাঙ্গাপাঙ্গদের অস্র নিয়ে আসতে বলে। পরে প্রায় ২০ জন কিশোর হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে শুরু করে এবং বাজার ব্যবসায়ীসহ উপস্থিত সকলকে গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের অস্রের আঘাতে আপেল নামক একজন আহত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন ধরে ঘড়িহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একতা বাজার হয়ে মূলপাড়া কলেজের আশপাশের রাস্তায় তাদের বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা করার  কথা শুনা যায়।
এছাড়াও শোল্লা-পাটওয়ারী বাজার সড়ক, শোল্লা থেকে সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক, পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ও চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ ও কলেজেসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল কলেজ গামী রাস্তা, বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কিশোর গ্যাং এবং ইভটিজাদের ব্যাপক ভাবে লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে স্থানীয়দের দাবী তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, আমি ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি, বিষয়টি দুঃখজনক।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার  এস আই ওবায়েদ উল্লাহ নয়ন জানান, একতা বাজারে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস করা নিয়ে যুবকদের মধ্যে মারামারির ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তিনি আরো জানান,  কোন পক্ষের লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাদের কাছ থেকে মূচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’