শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পৌর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩, ৯:৩৩ পিএম
চাঁদপুর পৌর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা

মো: মুছা তপদার : শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি ছাত্রলীগের মূলনীতি।১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলার প্রতিটি আন্দোলনের সঙ্গী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। রাজনৈতির পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেতারা নিজেদেরকেও দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে বলেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

২৭ মে শনিবার ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩ঃ৩০ ঘটিকায় চাঁদপুর পৌর ১৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এসকল কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর এবার তার কন্যাকে প্রকাশে হত্যার হুমকি দেয় সেই বি এনপি জামাত। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশ আজ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী। শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার হল ছাত্রলীগ। শেখ হাসিনা সরকারে আমলে চাঁদপুরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতার পর কোন সরকার করতে পারিনি। সামনে দ্বাদশ দ জাতীয় নির্বাচন। সেই বি এনপি জামাত আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নানান ষড়যন্ত্রে মেতেছে। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও  নৈরাজ্যের দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। উন্নয়নের সরকার শেখ হাসিনা সরকার। তাই দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারকে বারবার দরকার। ছাত্রলীগ কোন ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, টেন টার বাজি, ভুমি দুস্য মাদক থেকে সব সময় বিতর থাকবে। সকলের মঙ্গল কামনা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

এই সময় বক্ত্যব রাখেন চাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক ইউসুফ গাজী মুন্না, যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম, আশেকে রাসূল জাওয়াদ, জি এম রাকিব, আরাফাত সানি, মাইনুউদ্দিন সরকার রবিন।

Model Hospital

১৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান সজিব এর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাফায়েত খাঁন শুভ এর সঞ্চালনায় বর্ধিত সভায় অথিতিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির চৌধুরী, যুবলীগ নেতা রাসেল, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি অপু কুমার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক তানজিল রেজা রনি প্রমখ।

বর্ধিত সভার শুরুতে ১৫ নং ওযার্ড ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতার নেতৃত্বে পৃথক পৃথক বিছাল মিছিল নিয়ে বর্ধিত সভাস্থলে প্রবেশ করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’