শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই : সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩, ৮:৫৮ পিএম
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই : সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী আসনের সাংসদ সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।
৩রা জুন শনিবার সকালে উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব, গোবিন্দপুর উত্তর ও ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রীজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গ্রাম থেকে শহর প্রতিটি এলাকায় সুষম উন্নয়নের ফলে কোনো এলাকাই আজ অবহেলিত নয়। ধারাবাহিকভাবে সব কাজই সম্পন্ন হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অসামান্য নেতৃত্বের ফলেই পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমরা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময়েও ভালো রয়েছি।
চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাছান মিরাজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজুমদার, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মান্নান, উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু সুফিয়ান শাহীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ পাটওয়ারী, উপজেলা আ’লীগ নেতা জি এম হাসান তাবাচ্ছুম, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র খলিলুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক আল-আমিন পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ হোসেন খান, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মেম্বার, কাশেম ঢালি, আব্দুল মোতালেব তুহিন পাটওয়ারী, পারভেজ আহমেদ, মোস্তফা ঢালি, বাহাউদ্দিন বাহার, নজরুল ইসলাম সুমন, আব্দুস ছাত্তার পাটওয়ারী, পুতুল সরকার, সোহেল রানা, জানিবুল হক জুয়েল, মাজহারুল ইসলাম নিরু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শিমুল পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান পাটওয়ারী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি গাজী নেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় গাজীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’