শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

বাংলাদেশ একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩, ১০:০৪ পিএম
বাংলাদেশ একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মতলব উত্তর উপজেলায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি-ঘর মেরামত ও পূর্ণ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সহযোগীতায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি-ঘর মেরামত ও পূর্ণ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শামসুল আলম।

ড. শামসুল আলম বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। সকল নেতাকর্মী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়কে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। এই নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, বিজয়ের প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক, বাঙালি জাতি স্বত্তার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, শেখ হাসিনার প্রতীক। তাই আমার অনুরোধ নৌকার বিজয়কে সুনিশ্চিত করার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীবলেন, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ দেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এ উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ।

Model Hospital

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান তপুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁদপুর সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মো. আল এমরান খাঁন, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্যাহ মাষ্টার, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম, ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার, ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. রতন ফরাজী, ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন সরকার মুকুুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাড. আক্তারুজ্জামান, ষাটনল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ভুলন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন, মেঘনা ধনাগোদা পানি ব্যাবহাকারী ফেডারেশনের সভাপতি রাসেল ফয়েজ আহাম্মেদ চৌধুরী, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাজিব মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নেছার উদ্দিন মিশন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আওরঙ্গজেব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খসরু ঢালী’সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ৬৯ জন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে ১৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দেয়া হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’