শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩, ৩:৫০ পিএম
‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

‘গত কোরবান ঈদি এট্‌টু গরুর গোশত খাইছি, আর গোশত চোখি দেহিনি। আবার কোরবান ঈদ আইছে। এট্টু গরুর গোশতের জন্যি পরান বেরুই যাচ্ছে। জ্যান্ত গরু দেখলি মনে হয় কামড়ায়ে কামড়ায়ে কাচা গোশত খাই। গত রোজার ঈদি একটা ডিম কিনে আইনে খাইছি।’ অশ্রুসিক্ত চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন।

প্রায় ৫২ বছর আগে স্বামী মকছেদ গাজীকে হারান আয়েশা খাতুন। এরপর থেকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কদমবাড়িয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকছেন তিনি। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। পরে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। বয়সের ভারে এখন নুয়ে পড়ায় আর আগের মতো হাঁটতে পারেন না।

আয়েশা খাতুন বলেন, ‘ছেলে কাজ করে নিজে খায়। আমার খোঁজ নেয় না। একবার মা কয়েও ডাকে না। মেয়েটারে বিয়ে দিছি পাশের গ্রামে। সেনে যেয়ে দু-তিন দিন করে থাকি। মেয়ে যট্টুক পারে যত্ন করে। পোলট্রির (ব্রয়লার) গোশত খাত পারিনে। একবার খাইয়ে বমি করে দিলাম।’

‘চেয়ারম্যানরে কইছি একটা চালের কার্ড করে দিতি। ভোটার কার্ড দিয়ে আইছি। মাঝেমধ্যি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। কার্ড দেবে কি দেবে না কিছু কয় না। চাল আসতেছে। অন্য মানসির বস্তা বস্তা দেচ্ছে, দেখতিছি। আমারে দেয় না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন বৃদ্ধা আয়েশা।

Model Hospital

আক্ষেপ করে বৃদ্ধা বলেন, ‘ছেলে পেটে থাকতি ওর বাপ মরিল। ভিটেমাটিটুকু ছাড়া কিছু নাই। কত্ত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে বড় করিছি। সেই ছেলে এখন খবর নেয় না। মেয়ে বিয়ে দিছি গরিব ঘরে। ও যা পারে করে। লোকজন জিজ্ঞেস করে আমার ছেলে আছে কি না। বলি নেই, মরে গেছে। যে ছেলে খাতিলতি দেয় না, তার কথা কী বলব?’

আয়েশ খাতুন বলেন, ‘কদিন আগে ডায়রিয়া হয়ে পাঁচ-ছয় দিন হাসপাতালে ছিলাম। কেউ খোঁজ নিনি। এখন ভালোমন্দ খাতি রুহুটা ছটপট করে। গতকাল দুপুরে ও রাতে কিছু খাইনি। ঘরে চাল নেই। মাঝেমধ্যে আল্লাহরে কই, আমারে নিয়ে যাও। আল্লাহ শোনে না।’

বৃদ্ধার প্রতিবেশী স্থানীয় কদমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এনামুল হক কিরণ বলেন, ‘বৃদ্ধা আয়েশা খুব অসহায়। একমাত্র ছেলে মাকে দেখে না। মাঝে আমাকে বলেছিল চালের কার্ডের কথা। আমি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাইছি। পরে কী করেছে আর জানায়নি।’

উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, ‘নতুন করে চালের কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। দেখি বৃদ্ধার জন্য কিছু করা যায়নি।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital