শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিনেমা হল এখন মাদরাসা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩, ৬:৩৩ পিএম
সিনেমা হল এখন মাদরাসা

একসময় পাবনার ঈশ্বরদীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা হল ছিল ‘রাজু সিনেমা হল’। উপজেলার গোকুলনগরে গ্রামীণ পরিবেশে সিনেমা হলটির নানন্দিক স্থাপনা দেখে দর্শকরা মুগ্ধ হতেন। এখানে ঈশ্বরদী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাটোরের লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও পাবনার আটঘরিয়াসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সিনেমা দেখতে আসতেন। কালের বিবর্তনে সিনেমা হলটি এখন মাদরাসায় রূপান্তরিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের দিকে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক কমে গেলে রাজু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যেই হলটি বন্ধ ঘোষণা করতো। আবার দর্শকপ্রিয় কোনো সিনেমা এলে হল আবার চালু করা হতো। এভাবে চলার পর ২০১৯ সালের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলের মালিক এটি বন্ধ করে দেন।কিছুদিন এটি ফাঁকা থাকার পর স্থানীয় উম্মুল কুরআন একাডেমি মাদরাসা সিনেমা হল ভবন ভাড়া নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে ‘রাজু সিনেমা হল’ এখন মাদরাসা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে মানুষ বিনোদনের জন্য আসতেন। হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগত হতো। মানুষ আনন্দে-উৎসবে মেতে উঠতেন। সিনেমা হলের ব্যবসা ভালো হলে হয়তো এটি আজ মাদরাসা হতো না। তবে সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটে। এটিও ঠিক তাই।’

Model Hospital

সুজন হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘আশির দশকে যাত্রা শুরু করা এ সিনেমা হলে মানুষ সিনেমা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়তো। আগে দেখতাম মানসম্মত সিনেমা হলে এলেই মানুষ লাইন ধরে টিকিট কাটতো। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তার ভাটা পড়ায় অন্যান্য হলের মতো রাজু হলও বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু এটিই নয়, উপজেলার সাতটি সিনেমা হলের সব কয়টি বন্ধ হয়ে গেছে।’

উম্মুল কুরআন একাডেমির পরিচালক রুমন হোসাইন বলেন, ‘রাজু সিনেমা হলের ভবন দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে ছিল। ভবন মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নিয়েছি। এখানে ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আগে এটি সিনেমা হল ছিল, নাচ-গান হতো। এখনতো এটি কোরআনের শিক্ষালয়। এখানে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ কোরআনের শিক্ষা ও আল্লাহর ইবাদত করা হয়।’

কথা হয় রাজু সিনেমা হল ভবনের মালিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা আবুল কাসেম প্রায় ৪০ বছর আগে ঈশ্বরদী-রাজশাহী আঞ্চলিক সড়কের গোকুলনগর গ্রামে এ সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতেই এটি টিনশেডের ঘর দিয়ে শুরু হলেও পরে দোতলা নানন্দিক সিনেমা হল গড়ে তোলেন। আগে ব্যাপক সমাগম হতো এ সিনেমা হলে। বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ১৫ বছর আমি হল চালিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক সংকট দেখা দিলে একসময় বাধ্য হয়ে হল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হলের ভবন ভাড়া চাইলে তাদের মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছি। সেই থেকে রাজু সিনেমা হল এখন মাদরাসা। এ মাদরসায় আমার দুই সন্তান পড়াশোনা করে। এটি মাদরাসা হওয়ায় আমি নিজেই আনন্দিত।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’