বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সিনেমা হল এখন মাদরাসা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩, ৬:৩৩ পিএম
সিনেমা হল এখন মাদরাসা

একসময় পাবনার ঈশ্বরদীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা হল ছিল ‘রাজু সিনেমা হল’। উপজেলার গোকুলনগরে গ্রামীণ পরিবেশে সিনেমা হলটির নানন্দিক স্থাপনা দেখে দর্শকরা মুগ্ধ হতেন। এখানে ঈশ্বরদী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাটোরের লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও পাবনার আটঘরিয়াসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সিনেমা দেখতে আসতেন। কালের বিবর্তনে সিনেমা হলটি এখন মাদরাসায় রূপান্তরিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের দিকে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক কমে গেলে রাজু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যেই হলটি বন্ধ ঘোষণা করতো। আবার দর্শকপ্রিয় কোনো সিনেমা এলে হল আবার চালু করা হতো। এভাবে চলার পর ২০১৯ সালের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলের মালিক এটি বন্ধ করে দেন।কিছুদিন এটি ফাঁকা থাকার পর স্থানীয় উম্মুল কুরআন একাডেমি মাদরাসা সিনেমা হল ভবন ভাড়া নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে ‘রাজু সিনেমা হল’ এখন মাদরাসা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে মানুষ বিনোদনের জন্য আসতেন। হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগত হতো। মানুষ আনন্দে-উৎসবে মেতে উঠতেন। সিনেমা হলের ব্যবসা ভালো হলে হয়তো এটি আজ মাদরাসা হতো না। তবে সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটে। এটিও ঠিক তাই।’

Model Hospital

সুজন হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘আশির দশকে যাত্রা শুরু করা এ সিনেমা হলে মানুষ সিনেমা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়তো। আগে দেখতাম মানসম্মত সিনেমা হলে এলেই মানুষ লাইন ধরে টিকিট কাটতো। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তার ভাটা পড়ায় অন্যান্য হলের মতো রাজু হলও বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু এটিই নয়, উপজেলার সাতটি সিনেমা হলের সব কয়টি বন্ধ হয়ে গেছে।’

উম্মুল কুরআন একাডেমির পরিচালক রুমন হোসাইন বলেন, ‘রাজু সিনেমা হলের ভবন দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে ছিল। ভবন মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নিয়েছি। এখানে ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আগে এটি সিনেমা হল ছিল, নাচ-গান হতো। এখনতো এটি কোরআনের শিক্ষালয়। এখানে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ কোরআনের শিক্ষা ও আল্লাহর ইবাদত করা হয়।’

কথা হয় রাজু সিনেমা হল ভবনের মালিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা আবুল কাসেম প্রায় ৪০ বছর আগে ঈশ্বরদী-রাজশাহী আঞ্চলিক সড়কের গোকুলনগর গ্রামে এ সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতেই এটি টিনশেডের ঘর দিয়ে শুরু হলেও পরে দোতলা নানন্দিক সিনেমা হল গড়ে তোলেন। আগে ব্যাপক সমাগম হতো এ সিনেমা হলে। বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ১৫ বছর আমি হল চালিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক সংকট দেখা দিলে একসময় বাধ্য হয়ে হল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হলের ভবন ভাড়া চাইলে তাদের মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছি। সেই থেকে রাজু সিনেমা হল এখন মাদরাসা। এ মাদরসায় আমার দুই সন্তান পড়াশোনা করে। এটি মাদরাসা হওয়ায় আমি নিজেই আনন্দিত।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital