শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বাবার কবর জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

এখন থেকে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করব না : তানভীর হুদা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জুন, ২০২৩, ৯:৫১ পিএম
এখন থেকে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করব না : তানভীর হুদা

বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা বলেছেন, গত তিন-সাড়ে তিন বছর থেকেই আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করছি। এখন থেকে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করব না। এখন থেকে শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করব। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তির পূর্ব শর্ত হলো শেখ হাসিনার পতন। আমাদের নেত্রীর মুক্তি মানেই গোটা জাতির মুক্তি।

সোমবার বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার খন্দকারকান্দি নিজ বাড়ীতে বাবা সাবেক মন্ত্রী নুরুল হুদার কবর জিয়ারত শেশে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় কালে তিনি এ কথা বলেন।

তানভীর হুদা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি শুভেচ্ছা গ্রহন করেন কিন্তু ফুল ধরেননি। এ ব্যাপারে তানভীর হুদা বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমান দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি কোন ফুলের শুভেচ্ছা গ্রহন ও কাউকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছাও জানাবেন না। নেতাকর্মীদের কষ্ট না নিতে অনুরোধ করেন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কিছুই তোয়াক্কা করে না। দেশের মানুষের অধিকার বঞ্চিত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা, এ ধারাবাহিকতা থাকলে একটা সময় দেখা যাবে এ দেশটাই থাকবে না। সেজন্য আমাদের একটাই শর্ত শেখ হাসিনার পতন চাই, স্বৈরতন্ত্রের পতন চাই, গণতন্ত্রের মুক্তি চাই। গণতন্ত্রের মুক্তি মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তি। কারণ, সারা বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করে বেগম খালেদা জিয়া মাদার অব ডেমোক্রেসি।

Model Hospital

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা সবাই একমত পোষণ করেছি মাঠের আন্দোলনের। এখন শুধু একটি ডাকের অপেক্ষা। অর্থাৎ গণতন্ত্র মুক্তি মাঠের আন্দোলনের জন্য যে কাউকে একটা ডাক দিতে হবে।

তানভীর হুদা বলেন, সবারই একটা শেষ আছে। প্রশাসনের যারা দালালি করে তাদের একটা শেষ আছে। যারা দালালি করে তারা কখনো মর্যাদা পায় না। বর্তমানে প্রশাসনের অনেকেই ক্লান্ত যে দেশে কী হচ্ছে। এখন একটা আন্দোলন দরকার, তাহলেই দেখবেন প্রশাসন ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ বশির আহমেদ, জেলা বিএনপি সদস্য আবদুল মান্নান লস্কর, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু।

সঞ্চালনা করেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন মজুমদার।

১৪ ইউনিয়নের ও ১টি পৌরসভার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতীদল, মৎসজীবী দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’