শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মিলাদ ও খাবার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:৩৪ পিএম
মতলব দক্ষিণে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মিলাদ ও খাবার বিতরণ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মিলাদ ও অসহায় দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

১১ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে কাশিমপুর তা’লিমুল কোরআন নূরানীয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ দোয়া মিলাদ ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফজলুল হক বকাউলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহম্মেদ সরকার।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুমন বকাউলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোজাহিদুল ইসলাম কিরন, মতলব ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রধান, মতলব পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাবের সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিরান হোসেন মিয়াজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাসির মিয়াজী, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নূরে আলম মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান প্রমুখ।

Model Hospital

এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আশ্রাফ বাবু, মতলব পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মহসিন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন মুন্সি, উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারী, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রনি, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নবীর হোসেন বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রুবেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন ফয়েজ, জহিরুল ইসলাম বাবু, সদস্য আশিকুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা মুরাদ বকাউলসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপিরর সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান প্রধান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন, যুবদল নেতা শামীম হাজী, মামুম প্রধান, সাইফুল ইসলাম বকাউল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ডাঃ ফারুক, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবু বক্কর রাসেল বকাউল, ছাত্রদল নেতা মামুন প্রধান।

পরে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন কাশিমপুর তা’লিমুল কোরআন নূরানীয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার মহোতামিম মাওলানা ইসমাইল হোসেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’