বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিকুলতা সত্বেও কচুয়ার দোঘর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শতভাগ সাফল্য

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২ আগস্ট, ২০২৩, ১১:৩১ পিএম
প্রতিকুলতা সত্বেও কচুয়ার দোঘর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শতভাগ সাফল্য

কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে দোঘর ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধিনে সদ্য প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষায় ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে সবাই সাফল্যের সাথে কৃতকার্য হয়। দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করায় মাদ্রাসার শিক্ষক,শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ এলাকাবাসী ।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর ২০১৯ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্তি লাভ করে। এমপিওভুক্তি লাভ করলেও অবকাঠামোগত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কোমলমতি ৩ শত ১৭ জন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর ও এলাকাবাসীর অনুদানে নির্মিত তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা দালান রয়েছে। একটি কক্ষে দাপ্তারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ফলে জরাজীর্ণ টিনের ঘরটি শিক্ষার্থীদের একমাত্র পাঠাদানের কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন নয়ন জানান,বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রধান্য দিলেও শ্রেনি কক্ষের অভাবে দোঘর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এই অঞ্চলের মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে একমাত্র মহিলা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্ত মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ প্রদানের জন্য একাডেমিক ভবন আবশ্যক ।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার অরুপ তালুকদার বলেন,শিক্ষক-শিক্ষিকা ,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টায় এবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। তাছাড়া অনান্য পরীক্ষায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বরাবর ভালো ফলাফল করে আসছে। একাডেমিক ভবনের সংকট চাড়াও শ্রেনি কক্ষের আসবাবপত্রের সংকট রয়েছে। মাদ্রাসার সুম্মেখে অবস্থিত খেলার মাঠটি ভরাট করা আবশ্যক।

Model Hospital

তিনি আরো জানান,মাদ্রাসার সভাপতি মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন নয়নের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির সুপারিশক্রমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ খান সরজমিনে পরিদর্শন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে একটি একাডেমিক ভবনের জরুরী প্রয়োজনীতার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিভাবক ও স্থানীয়রা অচিরেই মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মানে যথাযথ কতৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছে।

হাজীগঞ্জে অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে অভিযান, বিকল ৩ ড্রেজার, ধ্বংস ১৫০ পাইপ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
হাজীগঞ্জে অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে অভিযান, বিকল ৩ ড্রেজার, ধ্বংস ১৫০ পাইপ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে বিভিন্ন জলাশয় ভরাটের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার দুটি ইউনিয়নে দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১৫০টি ড্রেজার পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ড্রেজার মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম এবং দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের চারিয়ানি গ্রামের তালুকদার বাড়ি ব্রিজের কাছে নাসিরকোট মৌজার বেতাগি বিলে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

Model Hospital

অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় কৃষিজমির আশপাশে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ স্থাপন করে রাখা হয়। পরে রাতের বেলায় এসব যন্ত্র চালু করে পাইপের সাহায্যে জমির উপরিভাগের মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব মাটি দিয়ে পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণের কারণে আশপাশের জমিতে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি জমির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো অকেজো করার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। অভিযানের অংশ হিসেবে দুটি পৃথক স্থানে থাকা প্রায় ১৫০টি ড্রেজার পাইপ সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি তিনটি ড্রেজার মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো ব্যবহার করে পুনরায় মাটি কাটা ও পরিবহন করা না যায়।

ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা এবং অবৈধভাবে টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।