বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় সরকারি শেডের ওপর দোকান নির্মাণ! প্রশাসনের নির্দেশে সরানো হলো স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
কচুয়ায় সরকারি শেডের ওপর দোকান নির্মাণ! প্রশাসনের নির্দেশে সরানো হলো স্থাপনা
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়নের রঘুনাপুর বাজারে হাটের সরকারি শেডের উপর থেকে দোকান নির্মাণ করার অভিযোগে প্রশাসনের নির্দেশে দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম উপস্থিতি থেকে সরকারি শেডের উপর থেকে দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে পরবর্তীতে দোকান সরিয়ে নেয়।
স্থানীয়রা জানান,কাদলা মৌজার সাবেক ১৫৫০ দাগের বিএস বর্তমান ২২২৪/৩৭৫৯ এর ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন নুরুল ইসলাম বেপারী। ওই জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানা দাবী করে নুরুল ইসলাম বেপারীর ছেলেরা সরকারি শেডের উপর একটি অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করেন। এই দোকান নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মালিকানা জায়গা অথবা সরকারি জায়গা বলে কুতুহল সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করলে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সাংবাদিকরা সরে জমিনে আসলে জায়গার মালিক নুরুল ইসলাম বেপারীর ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম ৫ শতাংশ জায়গার সকল কাগজপত্র গুলো উপস্থাপনা করেন। খারিজ, দাখিলা, দলিল ও সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখে ওই জায়গার প্রকৃতি মালিক নুরুল ইসলাম বেপারী। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমিক কর্মকর্তা  সরকারি শেডের উপর দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। বাজারের চারপাশের নির্দিষ্ট পরিধি বা সীমানাভুক্ত (পেরিফেরি) জন্য অপেক্ষা করতে নূরুল ইসলাম বেপারীকে বলে যান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু নাছির স্যারের নির্দেশে সরকারি শেডের উপর থেকে দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলে, দোকান সরিয়ে নেয়। জায়গার সঠিক কাগজপত্র থাকলে, বাজারের চারপাশের নির্দিষ্ট পরিধি বা সীমানাভুক্ত (পেরিফেরি) জন্য অপেক্ষা করতে নূরুল ইসলাম বেপারীকে বলা হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম বলেন, দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, আমার বাবার ক্রয়কৃত জায়গায়।দলিল, খারিজ, দাখিলাসহ সকল কাগজপত্র রয়েছে আমাদের। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে, কয়েক বছর আগে কাউকে না জানিয়ে জোরপূর্বক ঠিকাদার ও এলাকার একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে সরকারি শেড আমাদের জায়গার উপর নির্মাণ করেন। আমরা তখন বাধা দিলেও, তারা বাঁধা অপেক্ষা করেও শেড তৈরি করেন।

হাজীগঞ্জে অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে অভিযান, বিকল ৩ ড্রেজার, ধ্বংস ১৫০ পাইপ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
হাজীগঞ্জে অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে অভিযান, বিকল ৩ ড্রেজার, ধ্বংস ১৫০ পাইপ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে বিভিন্ন জলাশয় ভরাটের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার দুটি ইউনিয়নে দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১৫০টি ড্রেজার পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ড্রেজার মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম এবং দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের চারিয়ানি গ্রামের তালুকদার বাড়ি ব্রিজের কাছে নাসিরকোট মৌজার বেতাগি বিলে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

Model Hospital

অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় কৃষিজমির আশপাশে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ স্থাপন করে রাখা হয়। পরে রাতের বেলায় এসব যন্ত্র চালু করে পাইপের সাহায্যে জমির উপরিভাগের মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব মাটি দিয়ে পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণের কারণে আশপাশের জমিতে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি জমির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো অকেজো করার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। অভিযানের অংশ হিসেবে দুটি পৃথক স্থানে থাকা প্রায় ১৫০টি ড্রেজার পাইপ সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি তিনটি ড্রেজার মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো ব্যবহার করে পুনরায় মাটি কাটা ও পরিবহন করা না যায়।

ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা এবং অবৈধভাবে টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।