শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা, পরে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:১০ পিএম
চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা, পরে শিশুর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে ঔষধ সেবন করে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে প্রসবের পর শিশুটি মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা গেলেও কিশোরী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে শিশুটি মারা যাওয়ার পর কিশোরীর স্বজনরা মৃত শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
অভিযোগ রয়েছে দি ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার শেতু দালালের মাধ্যমে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কিশোরীকে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য সাইটোমিস্ক ঔষধ সেবন করিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি জানতে পেরে চাঁদপুর মডেল থানা এসআই রফিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়ালের মতো সব ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
অবশেষে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দি ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে কিশোরীকে চাঁদপুর সরকার জানান হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও প্রসব যন্ত্রণা সইতে না পেরে কিশোরী টয়লেটে প্রস্রাব করতে গেলে সেখানেই গর্ভপাত ঘটে। কিশোরী আত্মচিৎকারে অবশেষে গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত নার্সরা টয়লেটের ভিতর থেকে কিশোরী ও নবজাতক শিশুকে বেডে নিয়ে আসে। দি ইউনাইটেড হাসপাতালে কিশোরীকে ওষুধ সেবন করার কারণেই সাত মাসের মধ্যেই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটে। শিশুটি জন্মের পর হাসপাতালে তার এই করুন মৃত্যু হয়েছে।
সরকারী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স জানান, প্রাইভেট হাসপাতালে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করার কিশোরীর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে কিশোরীকে ভর্তি করানো হলেও তারা প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখেছে। মূলত ওষুধ সেবনের কারণেই সাত মাসেই কিশোরীর বাচ্চা প্রসব হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটির জন্মের পরেই মারা গিয়েছে। পরে কিশোরীর বড় বোন মৃত বাচ্চাটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে।
অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী জানান, মোবাইল ফোনে ফেসবুকের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার গৌরীপুরের ইমন নামে এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। বেশ কিছুদিন তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ইমন চাঁদপুরে এসে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার সাথে অবৈধ মেলামেশা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এই খবর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে দালালের মাধ্যমে ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেতুর সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি মত ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে সেতু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাচ্চা ঔষধ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার সেতু  একজন কসাই। এই হাসপাতলে এযাবৎকালে অনেক অবিবাহিত কিশোর ও যুবতীর অবৈধ গর্ভপাত মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা করেছে। সেতু দালাল চক্রের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীদের এই হাসপাতালে এনে ওষুধ সেবন করিয়ে বাচ্চা হত্যা করে অবৈধ গর্ভপাত ঘটায়।

এছাড়া সেতু বেশকিছু বাচ্চা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পূর্বে এই হাসপাতালে কাগজপত্র জটিলতার কারণে বেশ কয়েকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হানা দিয়ে জরিমানা আদায় করেছে। এই হাসপাতলে অবৈধভাবে বাচ্চা হত্যা করে গর্ভপাত করার ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়ে পরিচালক সেতুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানান সচেতন মহল।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital