শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হুমকির মুখে বেড়ীবাঁধ সড়কসহ অসংখ্য বসত ভিটা

আবারো ভাঙছে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৫৭ এম
আবারো ভাঙছে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী
আবারো ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে। চলতি বর্ষায় রঘুনাথপুর এলাকায় ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় ১শ’ মিটার জায়গা। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনপার করছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
২০১৭ সাল থেকে অল্প অল্প করে ডাকাতিয়ার ভাঙ্গনের কবলে বিলীন হচ্ছে পুরানবাজার, রঘুনাথপুরসহ এই অঞ্চলটি। ইতোমধ্যে প্রায় ৬শ মিটার জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনরোদে বরাবরের মতো এবারও আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়রা আশ্বাস নয়, চায় স্থায়ী প্রতিকার।
সম্প্রতি রঘুনাথপুরে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১শ’ মিটার জায়গা তলিয়ে গেছে নদীতে। এছাড়া ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকিতে রয়েছে অনেক বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ওয়াপদার রাস্তা। ভাঙ্গনরোধে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে বালিভর্তি ব্যাগ নদীতীরে ফেলছেন।
স্থানীয়রা জানান, ডাকাতিয়া নদীর উত্তর পাড়ে অসংখ্য ডুবচর ছাড়াও অহেতুক কয়েকটি চড় পড়ে আছে। যার ফলে নদীর দক্ষিণ পাড়ে জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উত্তর পাড়ের চরগুলো ড্রেজিং করতে এসেও কাজ সম্পন্ন না করে ফিরে গিয়েছে। কি কারণে ড্রেসিং কাজ সম্পূর্ণ না করে কর্তৃপক্ষ ফিরে গিয়েছে নদীর দক্ষিণ পাড়ের এলাকার মানুষ তা জানেন না।
চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার পৌর ৫ নং ওয়ার্ডস্থ রঘুনাথপুর বাজার সংলগ্ন শেখ বাড়ী, খান বাড়ী, পন্ডিত বাড়ী, সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প (গুচ্ছগ্রাম) কাজী বাড়ী, গাজী বাড়ী, মডেল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকা, বালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকা ঢালীরঘাট, পাটওয়ারী বাড়ী,বাগাদি ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ও শহরের ১১ নং ওয়ার্ড গুনরাজদি এলাকা তীব্র ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এছাড়াও প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসতঘর ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন এলাকায় জরিপ করেন।
রঘুনাথপুর ও ঢালীর ঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দ ও ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন, টেলু খান, আবুল বেপারী ও দুদু মেম্বার জানান, প্রতিবছরই আমাদের ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়। এ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে যথাযথ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। নদী ভাঙ্গন রোধে এখনই যথাযথ কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে বেড়ীবাঁধ সড়কসহ কয়েকটি এলাকা বিলীন হওয়ার সঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ডাকাতিয়া নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছি। নদীর তীরে ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ চেয়েছি। আশা করি বরাদ্দ পেলে শীঘ্রই স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’