শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিষ্ণপুর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন এবং চাঁদপুর শহড় রক্ষা বাঁধ বিষয়ে আলোচনা সভায়

চাঁদপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ করতে আবারো নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সজীব খান প্রকাশিত: শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩, ৮:০৯ পিএম
চাঁদপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ করতে আবারো নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ও চাঁদপুর শহড় রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় চাঁদপুর সার্টিক হাউজে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

এ সময় তিনি বলেন, বর্ষার শেষ সময়ে যখন পানি নামতে থাকে তখন নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়, আমরা সেটা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়নে বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। এখানে যার যতটুকু বরাদ্ধ দরকার, তা নিয়ে আসার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি, প্রয়োজনে আবার কথা বলবো। এবং একে বারে জরুরী ভিত্তিতে যেটা প্রয়োজন, সেটা কম সময়ের মধ্যে অনুমোদন হয় সে ব্যবস্থা করবো।

তিনি বলেন উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা সরকার বার বার দরকার, সামনে নির্বাচন আছে, আমরা সবাই মিলে শেখ হাসিনা সরকারকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার বিজয়ী হলে নদী ভাঙ্গন যতটুকু আছে, তার রক্ষা করা হবে, এজন্য আগামী নির্বাচনে নৌকাকে ভোট দিতে হবে।

Model Hospital

নদীর ভাঙা-গড়ার খেলা থাকবেই। সেটাকে আমরা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারব না। বিশেষ করে পুরো চর অঞ্চল। যেমন পদ্মা-মেঘনার মাঝখানের চর পুরোটা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। যেখানে একেবারে বাজার, হাট ,মসজিদ, মানুষের আশ্রয়স্থল ভেঙে যাচ্ছে। সেখানে ভাঙ্গন রোধে যথা সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি। চাঁদপুরে আগামীতেও নদী ভাঙন প্রতিরোধে কাজ হবে। যেটুকু ভাঙ্গছে সেটুকু যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে নৌকাতেই ভোট দিতে হবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম বার, পানি উন্নয়নে বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল হক, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হেদায়েত উল্ল্যাহ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইউব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামীম, ইব্রাহীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাশিম খান সহ পৌর কাউন্সিলর, ওয়ার্ড সদস্যগন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’