শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩, ৯:০৬ পিএম
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেস্টার কারণে ২১ আগস্ট বাঙালী জাতির জন্য আরেকটি কালো অধ্যায়। ২০০৫ সালের এদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় বিএনপি জামায়াত। যা বাঙালী জাতির জন্য একটি অত্যান্ত মর্মাান্তিক বিষয়। ২১ আগস্ট সোমবার বিকালে উপজেলার সুজাতপুর ইউনিট আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহত শহিদ এবং আহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ প্রধান। সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান প্রধানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমিন বোরহান।

আরো বক্তৃতা দেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজামান সরকার দুলাল, সুলতানাবাদ ইউনিয়র আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাসার খোকন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন মাস্টার, সুলতানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম খন্দকার, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সালাউদ্দিন, সুজাতপুর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জামাল উদ্দিন, ইসলামাবাদ উইনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন পাটোয়ারী, এখলাছপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন শ্যামল, মতলব উত্তর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মোঃ শাহ জালাল মাস্টার, চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সুজন ভইয়া, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের পচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুব বেপারী, মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াছকুরুনী সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য কালা সুজন, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খান প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’