বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮:৩২ পিএম
ফরিদগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত

শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যকার দ্বন্ধ নিরসনে প্রধান শিক্ষকের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকা এবং উল্টো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনার ব্যাপারে এক অভিভাবকের দায়ের করা অভিযোগে বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা স্কাউটস’র কমিশনার হাছিনা আক্তার ডলির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেন ওই বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুমন শীল। অভিযোগের আলোকে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের এডিপিও মো. রবিউল আলম’র নের্তৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিভাগীয় তদন্ত করেন।

জানা গেছে, অভিযোগকারী ফরিদগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সুমন শীল নিজের দুই সন্তানের পড়ালেখার জন্য গ্রাম থেকে উপজেলা সদরের অন্যতম সেরা বিদ্যাপিঠ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। কিন্তু গত ২৩ জুলাই প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছোট ছেলে ঋজু এর স্কুল ব্যাগ ডাস্টবিনে ফেলে একই ক্লাসের সিয়াম। ঘটনা জেনে ঋজুর ভাই একই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ঋক ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে আসে এবং সিয়ামকে চড় মেরে শাসন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সিয়ামের নানী ঋককে সিয়ামের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় এবং পরবর্তীতে সিয়ামের বাবা রুবেল শিক্ষকদের সামনেই পুনরায় ঋককে মারধর করে এবং ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে ফেললে সে আহত হয়। আবার এই ঘটনা যাতে ঋজু-ঋকের বাবা মাকে না জানানো হয় সেইজন্য প্রধান শিক্ষকসহ অন্যশিক্ষকরা তাদের দুই ভাইকে শাসিয়ে দেয়। বিষয়টি জেনে ঋক ও ঋজুর বাবা সুমন শীল পরবর্তীতে বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি রঢ় আচরণ করেন। এমনকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকতার কাছে গিয়েও কোন ফল পাননি।

ফলে বাধ্য হয়ে গত ২ আগস্ট মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

Model Hospital

এব্যাপারে সুমন শীল জানান, সিয়ামের অভিভাবক রুবেলসহ অন্যরা ওই দিনের ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সহকারি শিক্ষকদের বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের অশিক্ষক সুলভ আচরণ তাকে ব্যথিত করেছে। শিশুরা অনেক কিছুই না বুঝে করে ফেলে। স্কুলে থাকাকালিন শিক্ষকদের দায়িত্ব বাবা মায়ের আদর দিয়ে তাদের শাসন ও বুঝানো। কিন্তু তারা উল্টো আচরণ করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। আর যেন কোন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এমন ঘটনার শিকার নয় হয়, সেই কারনে আমি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের আশে-পাশের অনেক অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭-১৮ বছর হাছিনা আক্তার ডলি প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকুরির সুবাদে অনেকটা স্বেচ্ছাচারীতা ও অভিভাকদের সাথে অশোভনীয় আচরণের কথা এখন সবাই অবগত। কিন্তু এরপরও অদৃশ্য ক্ষমতার কারনে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। সুমন শীলের অভিযোগের বিষয়টি নিষ্ঠার সাথে তদন্ত করলে প্রধান শিক্ষকের মুখোশ খুলে যাবে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জহির হোসেন বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্ত করছে। আমি শুধু তদন্ত কর্মকর্তাদের সহায়তা করেছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা অফিসের এডিপিও মো. রবিউল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন আছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital