শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩৪ পিএম
মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর-মাছুয়াখাল রোডের নারায়ণপুর দাস বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি রাস্তা ও পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে বালুর ব্যবসা করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। আর এ অবৈধ বালু ব্যবসার ফলে পথচারী থেকে শুরু করে শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। স্তূপ করে রাখা বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণপুর মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ির সামনে ও বোয়ালজুড়ি খালের পাড় এবং সরকারি রাস্তার দু’পাশ বেদখল করে ব্যবসায়ীদের স্তূপ করে রাখা বালুর চিত্র। সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর ব্যবসা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বলছে, তাদের নিজস্ব জায়গায় এই ব্যবসা করছে। রাস্তার দুই পাশে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে বালুর পানি সরতে না পারায় সরকারি রাস্তায় সবসময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। এদিকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করার সময় সরকারি রাস্তা দখলে নেয়ার ফলে ধূলাবালিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। পথচারী ও গাড়িযুগে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নাক মুখ চেপে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

ভূক্তভোগি সাখাওয়াত সুমন প্রধান বলেন, ধূলাবালির কারণে প্রত্যেকদিন ৩ থেকে ৪ বার ঘর পরিষ্কার করতে হয়। ঘরের চালে তাকালেই বুঝা যায় ধূলাবালি কি পরিমাণ। কাপড় শুকাতে পারি না ধূলাবালির কারণে। ঘর থেকে বের হওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পরেছে। বালু উত্তোলনের সময় বালুর পানি ও বালু এসে আমার বাড়ির উঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে আমার ছোট বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে একাধিকবার জানানোর পরও কোন প্রকার সমাধান পাইনি।

কথা হয় নারায়ণপুর কাজি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো.  জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলামসহ একাধিক পথচারীর সাথে। তারা বলেন, সমস্যাটা শুধু আজকের নয়, এটা দীর্ঘদিনের। এই রাস্তা দিয়ে খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খোলা-মেলাভাবে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে বালুর ব্যবসা করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা আরো বলেন, ধূলাবালির ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগসহ নানান সমস্যায় ভুগতে হয়।

Model Hospital

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন বলেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী, মাছুয়াখালের অধিকাংশ লোকজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। বালুর ব্যবসা যারা করেন তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে বালুর স্তুপ করে বালু উত্তোলনের সময় পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা না করে বালু উত্তোলন করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে এই গ্রামীণ জনপদের মানুষ চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছরও এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক স্যারের নির্দেশে আমি বালু ব্যবসায়ীদের রাস্তার তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বালু ব্যবসা করতে বলেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’