ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর-মাছুয়াখাল রোডের নারায়ণপুর দাস বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি রাস্তা ও পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে বালুর ব্যবসা করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। আর এ অবৈধ বালু ব্যবসার ফলে পথচারী থেকে শুরু করে শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। স্তূপ করে রাখা বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

Model Hospital

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণপুর মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ির সামনে ও বোয়ালজুড়ি খালের পাড় এবং সরকারি রাস্তার দু’পাশ বেদখল করে ব্যবসায়ীদের স্তূপ করে রাখা বালুর চিত্র। সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর ব্যবসা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বলছে, তাদের নিজস্ব জায়গায় এই ব্যবসা করছে। রাস্তার দুই পাশে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে বালুর পানি সরতে না পারায় সরকারি রাস্তায় সবসময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। এদিকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করার সময় সরকারি রাস্তা দখলে নেয়ার ফলে ধূলাবালিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। পথচারী ও গাড়িযুগে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নাক মুখ চেপে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

ভূক্তভোগি সাখাওয়াত সুমন প্রধান বলেন, ধূলাবালির কারণে প্রত্যেকদিন ৩ থেকে ৪ বার ঘর পরিষ্কার করতে হয়। ঘরের চালে তাকালেই বুঝা যায় ধূলাবালি কি পরিমাণ। কাপড় শুকাতে পারি না ধূলাবালির কারণে। ঘর থেকে বের হওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পরেছে। বালু উত্তোলনের সময় বালুর পানি ও বালু এসে আমার বাড়ির উঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে আমার ছোট বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে একাধিকবার জানানোর পরও কোন প্রকার সমাধান পাইনি।

কথা হয় নারায়ণপুর কাজি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো.  জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলামসহ একাধিক পথচারীর সাথে। তারা বলেন, সমস্যাটা শুধু আজকের নয়, এটা দীর্ঘদিনের। এই রাস্তা দিয়ে খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খোলা-মেলাভাবে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে বালুর ব্যবসা করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা আরো বলেন, ধূলাবালির ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগসহ নানান সমস্যায় ভুগতে হয়।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন বলেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী, মাছুয়াখালের অধিকাংশ লোকজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। বালুর ব্যবসা যারা করেন তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে বালুর স্তুপ করে বালু উত্তোলনের সময় পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা না করে বালু উত্তোলন করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে এই গ্রামীণ জনপদের মানুষ চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছরও এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক স্যারের নির্দেশে আমি বালু ব্যবসায়ীদের রাস্তার তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বালু ব্যবসা করতে বলেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় ছাত্রীসহ প্রধান শিক্ষক আটক

মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর-মাছুয়াখাল রোডের নারায়ণপুর দাস বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি রাস্তা ও পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে বালুর ব্যবসা করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। আর এ অবৈধ বালু ব্যবসার ফলে পথচারী থেকে শুরু করে শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। স্তূপ করে রাখা বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

Model Hospital

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণপুর মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ির সামনে ও বোয়ালজুড়ি খালের পাড় এবং সরকারি রাস্তার দু’পাশ বেদখল করে ব্যবসায়ীদের স্তূপ করে রাখা বালুর চিত্র। সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর ব্যবসা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বলছে, তাদের নিজস্ব জায়গায় এই ব্যবসা করছে। রাস্তার দুই পাশে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে বালুর পানি সরতে না পারায় সরকারি রাস্তায় সবসময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। এদিকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করার সময় সরকারি রাস্তা দখলে নেয়ার ফলে ধূলাবালিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। পথচারী ও গাড়িযুগে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নাক মুখ চেপে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

ভূক্তভোগি সাখাওয়াত সুমন প্রধান বলেন, ধূলাবালির কারণে প্রত্যেকদিন ৩ থেকে ৪ বার ঘর পরিষ্কার করতে হয়। ঘরের চালে তাকালেই বুঝা যায় ধূলাবালি কি পরিমাণ। কাপড় শুকাতে পারি না ধূলাবালির কারণে। ঘর থেকে বের হওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পরেছে। বালু উত্তোলনের সময় বালুর পানি ও বালু এসে আমার বাড়ির উঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে আমার ছোট বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে একাধিকবার জানানোর পরও কোন প্রকার সমাধান পাইনি।

কথা হয় নারায়ণপুর কাজি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো.  জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলামসহ একাধিক পথচারীর সাথে। তারা বলেন, সমস্যাটা শুধু আজকের নয়, এটা দীর্ঘদিনের। এই রাস্তা দিয়ে খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খোলা-মেলাভাবে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে বালুর ব্যবসা করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা আরো বলেন, ধূলাবালির ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগসহ নানান সমস্যায় ভুগতে হয়।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন বলেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী, মাছুয়াখালের অধিকাংশ লোকজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। বালুর ব্যবসা যারা করেন তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে বালুর স্তুপ করে বালু উত্তোলনের সময় পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা না করে বালু উত্তোলন করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে এই গ্রামীণ জনপদের মানুষ চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছরও এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক স্যারের নির্দেশে আমি বালু ব্যবসায়ীদের রাস্তার তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বালু ব্যবসা করতে বলেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।