শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩৪ পিএম
মতলব নারায়ণপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা; স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর-মাছুয়াখাল রোডের নারায়ণপুর দাস বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি রাস্তা ও পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে বালুর ব্যবসা করে আসছে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। আর এ অবৈধ বালু ব্যবসার ফলে পথচারী থেকে শুরু করে শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। স্তূপ করে রাখা বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণপুর মোহাম্মদ আলী ডাক্তারের বাড়ির সামনে ও বোয়ালজুড়ি খালের পাড় এবং সরকারি রাস্তার দু’পাশ বেদখল করে ব্যবসায়ীদের স্তূপ করে রাখা বালুর চিত্র। সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর ব্যবসা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বলছে, তাদের নিজস্ব জায়গায় এই ব্যবসা করছে। রাস্তার দুই পাশে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে বালুর পানি সরতে না পারায় সরকারি রাস্তায় সবসময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। এদিকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করার সময় সরকারি রাস্তা দখলে নেয়ার ফলে ধূলাবালিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। পথচারী ও গাড়িযুগে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নাক মুখ চেপে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

ভূক্তভোগি সাখাওয়াত সুমন প্রধান বলেন, ধূলাবালির কারণে প্রত্যেকদিন ৩ থেকে ৪ বার ঘর পরিষ্কার করতে হয়। ঘরের চালে তাকালেই বুঝা যায় ধূলাবালি কি পরিমাণ। কাপড় শুকাতে পারি না ধূলাবালির কারণে। ঘর থেকে বের হওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পরেছে। বালু উত্তোলনের সময় বালুর পানি ও বালু এসে আমার বাড়ির উঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে আমার ছোট বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে একাধিকবার জানানোর পরও কোন প্রকার সমাধান পাইনি।

কথা হয় নারায়ণপুর কাজি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো.  জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলামসহ একাধিক পথচারীর সাথে। তারা বলেন, সমস্যাটা শুধু আজকের নয়, এটা দীর্ঘদিনের। এই রাস্তা দিয়ে খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকজন যাতায়াত করে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খোলা-মেলাভাবে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে বালুর ব্যবসা করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা আরো বলেন, ধূলাবালির ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগসহ নানান সমস্যায় ভুগতে হয়।

Model Hospital

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন বলেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়নের লামচরী, মাছুয়াখালের অধিকাংশ লোকজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। বালুর ব্যবসা যারা করেন তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে বালুর স্তুপ করে বালু উত্তোলনের সময় পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা না করে বালু উত্তোলন করায় রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে এই গ্রামীণ জনপদের মানুষ চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছরও এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক স্যারের নির্দেশে আমি বালু ব্যবসায়ীদের রাস্তার তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বালু ব্যবসা করতে বলেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital