শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় আওয়ামী লীগের উন্নয়ন প্রচার সমাবেশ

বিএনপি জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তথ্য সন্ত্রাস করে যাচ্ছে : ড. সেলিম মাহমুদ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৯:১৪ পিএম
বিএনপি জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তথ্য সন্ত্রাস করে যাচ্ছে : ড. সেলিম মাহমুদ

‘‘রুখো ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার, প্রচার করো শেখ হাসিনার উন্নয়ন’’ এই স্লোগানে কচুয়ায় আওয়ামী লীগের উন্নয়ন প্রচার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকেলে রহিমানগর লতিফিয়া এনামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি জামায়াত জোট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তথ্য সন্ত্রাস করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ৪২ বছর ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। আজ শেখ হাসিনার কারনে বাংলাদেশ পৃথিবীতে সম্মানিত রাষ্ট্রের নেতৃত্বের পর্যায় চলে গেছেন। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে বিরোধিতাকারী জামাত-বিএনপি একদিকে ষড়যন্ত্র করছে অন্যদিকে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো অল্প সময়ের মধ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে কেউ উন্নতবিশে^র শিখরে তুলতে পারেনি। বিএনপি-জামাত এ উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্থ করতে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের নেতাকে আমি প্রশ্ন করতে চাই, এ দেশের জন্য আপনার কী অবদান আছে? পৃথিবীর কোন দেশের বিচার ব্যবস্থাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বন্ধ করার নজির পৃথিবীতে নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখুন। তারই প্রতিনিধি হিসাবে আমাকে সমর্থন করুন। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ, আমাদের সাথে রয়েছে এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

Model Hospital

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পূর্ন চন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী আহাদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আইয়ুব আলী পাটওয়ারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, ইউপি চেয়ারম্যান এম. আখতার হোসাইন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহপরান, সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপ কান্তি টিটু, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শুভজিৎ দাস ও শেখ মজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক কাজী মেহেদী হাসান প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান হাতেম, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিব মজুমদার জয় ও রেজাউল মাওলা হেলাল, যুবলীগ নেতা আহসান হাবীব জুয়েল, এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’