শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌকার মনোনয়ন চান এসি মিজান

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১০:২৩ পিএম
নৌকার মনোনয়ন চান এসি মিজান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (এসি মিজান)।

২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে সকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে উন্নয়ন সমাবেশে এসি মিজান বলেন, আমি চাঁদপুর-২ আসন থেকে নৌকার কান্ডারি হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি চাঁদপুর-২ আসনে মনোনয়ন চাইবো এবং উনি মনোনয়ন দিলে এলাকার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মতলব উত্তর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাযিত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ আওযামী লীগ মতলব উত্তরের তৃণমূলের ভোটে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জনগনের ভোটে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে তিনি দাযিত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সঙ্গী হতে আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইচ্ছা পোষণ করছি। নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ এলাকাকে আধুনিকায়ন করতে কাজ করে যাবো। রোল মডেলে পরিণত করার চেষ্টা করব। আমি মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হলে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করবো।

Model Hospital

মনোনয়ন না পেলেও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি এই অঞ্চলে উন্নয়নের সারথী হয়ে আসছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবো। যদি আমাকে মনোনয়ন না দেওয়া হয় তাহলে যিনি নৌকার মনোনয়ন পাবে তার পক্ষে কাজ করে যাবো। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিজয়ী ছিনিয়ে আনবো।

অতিত রাজনীতির ব্যাগগ্রাউন্ড দেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবেন বলে আশা করি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’