শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সালাম আজাদ জুয়েলের ক্রিয়া সামগ্রী বিতরন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে সালাম আজাদ জুয়েলের ক্রিয়া সামগ্রী বিতরন
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন এর ইসলামপুর, চররনবলিয়া ও কৃষ্ণপুর গ্রামের ৬ টি গ্রুপের টিমের মাঝে ক্রিকেট খেলার সামগ্রী বিতরন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি : (বিআরডিবি)র চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল। তার নিজ অর্থে বিতরনকৃত  ক্রিকেট খেলার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে উন্নত মানের ব্যাট, স্ট্যাম্প, বেল, টেনিস বল, টেপ।
এই সময় প্রধান অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম  আজাদ জুয়েল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খোকন তালুকদার, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি  আবুল বাসার মেলেটারি, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: সেলিম মিয়াজীন,ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রসুল, আলী আকবর মিয়াজি। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মামুন মিয়াজী ও জুয়েল তপাদার।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আজকে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। আর এই দিনটিকে স্বরনীয় করতে এলাকার তরুন প্রজন্মকে শিক্ষা ও ক্রিয়াপ্রেমি হিসেবে গড়ে তুলতে আমার সামান্য প্রয়াস। জাতির জনকের ত্যাগ তিথিক্ষায় সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে  আজকের এই বাংলাদেশ। তিনি আমাদের একটি দেশ স্বাধীন করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেছেন। তার জীবনী তোমার জানতে হবে এবং সেই আদর্শ ধারণ করে জীবন গড়তে হবে।
এখন তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা  একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে তিনি সারা দেশের মানুষ কে সপথ পাঠ করালেন, তা আমাদের আগামীর জন্য কাজে লাগবে। আপনা কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত হবেননা, তা হলে আমরা কেউ আপনাদের সাথে কোনরুপ সম্পর্ক রাখবোনা। আপনারা ই হলেন আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম। আমরা আপনাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। এই এলাকায় খেলাধুলাসহ সকল ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত আগে ও ছিলাম আর সামনে ও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এর আগে সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামীলীগ  কতৃক আয়োজিত স্মৃতিস্তম্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’