শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভায়

শেখ রাসেল আজ বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখতেন : সিআইপি জালাল আহমেদ

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৩, ৯:৫১ পিএম
শেখ রাসেল আজ বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখতেন : সিআইপি জালাল আহমেদ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট গভীর রাতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের চক্রান্তের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যা করা হয়।

এদিন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলকে হত্যার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা এক ঘৃণ্য ইতিহাস রচনা করে।

১৮ অক্টোবর দুপুরে ফরিদগঞ্জ বাজারের লাকি প্লাজায় অবস্থিত কার্যালয়ে শেখ রাসেলের ৬০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী কাতারস্থ আ’লীগের সহ-সভাপতি সিআইপ জালাল আহমেদ এইসকল কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, শেখ রাসেল আজ বেঁচে থাকলে নিশ্চই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে প্রজন্মের নন্দিত নেতা হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখতেন। তাঁর হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একজন ভবিষ্যত নেতাকেই হারিয়েছি আমার।

Model Hospital

তিনি বলেন, আপনার জানেন আমি এই উপজেলায় শুধু রাজনীতি করতে আসিনি। আমি এসেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল বরাদ্ধের সাথে আমার ব্যাক্তিগত অর্থ সাথে যোগ করে এই উপজেলাকে উন্নয়নের শিকড়ে নিয়ে যেতে। আমি সকল শ্রেনী পেশার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমি আশা করি আপনারা আমার পাশে সবসময় থাকবেন।

উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি লোকমান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য তরুন সমাজসেবক পাবেল পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলী আহমেদ, যুবলিগ নেতা আব্দুল গাফ্ফার সজিব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সদস্য আবু তালেব সর্দার, যুবলীগ নেতা আকরাম হোসেন রবিন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শিমুল পাটওয়ারী, পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রুবেল মিয়াজি, যুবলীগ নেতা মিরন হোসেন মহন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন, কাতারস্থ আ’লীগ নেতা রাসেল খান টিটু, ইউপি সদস্য নান্টু, যুবলীগ নেতা আব্দুর রহিম, ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতা কর্মীরা।

এর আগে উপজেলা পরিষদের সামনে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শেখ রাসেলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’