শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জনগণ সঙ্গে না থাকায় বিএনপির আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগেনা : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:৪১ পিএম
জনগণ সঙ্গে না থাকায় বিএনপির আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগেনা : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও কালির বাজারে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

২০ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ক্যাম্পাসে বাগানবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল সাত্তার এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়ার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমদ, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব লায়ন আরিফ উল্যাহ সরকার, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ প্রধান, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান ইমাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, বাগানবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাগানবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফখরুদ্দীন ভুঁইয়া।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন মুকুল সরকার, চাঁদপুর জেলা যুবলীগ নেতা গাজী সাখাওয়াত হোসেন, ষাটনল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ভুলন চৌধুরী, ইসলামবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জালাল ভুঁইয়া, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিব মিয়া’সহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতার পক্ষের সকলকে জোট বেঁধে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।

Model Hospital

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম আরো বলেছেন, জনগণ সঙ্গে না থাকায় বিএনপির আন্দোলনের পালে কোনদিন হাওয়া লাগেনা, নির্বাচনের আগে কতটুকু লাগবে তাও বুঝা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সময় দেশে যতো উন্নয়ন হয় তা অন্য কোনো সরকারের সময় হয় না। অন্য সরকারের সময়ে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য আবারও শেখ হাসিনাকেই দরকার।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’