শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কালির বাজারে জামায়াত-বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩, ৯:২৩ পিএম
কালির বাজারে জামায়াত-বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ ও অবরোধের প্রতিবাদে মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নর কালির বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

শুক্রবার সকালে কালির বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আড়তে গিয়ে শেষ হয়।

বাগান বাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস ছাত্তার প্রধানের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম মেম্বার, উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি সতীষ চন্দ্র বর্মন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিব দেওয়ান, উপজেলা মোটর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মিলন সরকার, সহ সম্পাদক আজিজুল হক আরিফ, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মাসুম প্রধান, আওয়ামী লীগ নেতা হালিম সরকার , জাহাঙ্গীর সরকার, মোঃ নান্নু সরকার, জাহাঙ্গীর মেম্বার, চাঁন মিয়া মেম্বার, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রিয়াজ, দুলাল সরকার।

এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

সমাবেশ বক্তারা বলেন, সারাদেশে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসী বাহিনী নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ, হরতাল ও অবরোধ করে দেশকে পঙ্গু করে দিতে চায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের উন্ন্য়নের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

হরতালের নামে মতলব উত্তরে নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ চালানোর চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ মাঠে থেকে প্রতিহত করবে। এই দেশ একমাত্র আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ। তাই আগামী নিবাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’