শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে আপনারা আমাকে সমর্থন করবেন : ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

মো. রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩, ৮:২৩ পিএম
জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে আপনারা আমাকে সমর্থন করবেন : ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে সমর্থন করবেন, সেই বিশ^াস আমার আছে আপনাদের প্রতি। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে ১৯৭২ সাল থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই দিবসটি। এই বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “সমবায়ে গড়ছি দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ”। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারকে হত্যা করে এ দেশে পাকিস্তানি শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। তা আর বাস্তবায়ন হয়নি তাঁর সুযোগ্যে কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে। এখন এই বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই কচুয়ায় ১শ ২০টি সমবায় সমিতি রয়েছে।

সকল সমবায়ীরা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আগামী ২০২৪ সালে জানুয়ারীর নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করবেন। সে বিশ^াস ও আস্থা আপনাদের প্রতি আমার রয়েছে।

তিনি শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগের আয়োজনে উপজেলা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বর্ণাঢ্য র‌্যালিত্তোর আলোচনা সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

Model Hospital

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইবনে আল জায়েদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম খলিল,মুক্তিযোদ্ধা জাবের মিয়া, সনতোষ চন্দ্র সেন,সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইন চেয়ারম্যান সালমা শহীদ, সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য রওনক আরা রত্না ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর তালুকদার প্রমুখ।

একই দিন ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের রবি মৌসুমের কৃষি পূনর্বাসন ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৯৫জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দীন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’